সৌরজগতের শেষ সীমানায় থাকা প্লুটো একসময় গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৩০ সালে আবিষ্কারের পর দীর্ঘ ৭০ বছর গ্রহ হিসেবে পরিচিতি পেলেও পূর্ণাঙ্গ গ্রহ হওয়ার তিনটি শর্ত পূরণ করতে না পারায় ২০০৬ সালে প্লুটোকে বামন গ্রহের শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন। আইএইউ অফিস অব অ্যাস্ট্রোনমি ফর এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্লুটো নেপচুনের বাইরের বরফ ও পাথুরে অঞ্চল কুইপার বেল্টে অবস্থিত। এটি কোনো নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথ অনুসরণ করে না।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, প্লুটোর ঘূর্ণনগতি এতটাই ধীর যে তা মানুষের জীবনকালের সঙ্গে মেলালে অবিশ্বাস্য মনে হবে। ধীর ঘূর্ণনগতির কারণে সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে প্লুটোর সময় লাগে প্রায় ২৪৮ বছর। আর তাই প্লুটো আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটি নিজের কক্ষপথ ঘুরে আসতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ২১৭৮ সালে প্লুটো নিজের কক্ষপথ পূর্ণ করবে। তখন প্লুটোকে প্রথম যাঁরা দেখেছিলেন, তাঁদের কেউই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন না।
প্লুটোর চলার পথ মোটেও সরল নয়। কখনো এটি সূর্যের কাছে চলে আসে, আবার কখনো অনেক দূরে সরে যায়। আকারে ছোট প্লুটোর পৃষ্ঠে জমে থাকা নাইট্রোজেন, মিথেন ও কার্বন মনোক্সাইড রয়েছে। প্লুটোর বায়ুমণ্ডল বেশ পাতলা ও নাজুক। ফলে সূর্য থেকে অনেক দূরে সরে গেলে বায়ুমণ্ডল জমে গিয়ে তুষারের মতো পৃষ্ঠে ঝরে পড়ে।
প্লুটোর পাঁচটি চাঁদ রয়েছে, যার মধ্যে ক্যারন অন্যতম। ২০১৫ সালে নাসার নিউ হরাইজনস মহাকাশযান প্রথম প্লুটোর পাশ দিয়ে উড়ে যায়। সেই সময় ধারণ করা ছবিতে প্লুটোতে বরফের পাহাড় ও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ দেখা গেছে।
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স