প্রাণিজগতের বিবর্তনের ইতিহাসে ঘুম বা বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা বেশ পুরোনো হলেও জেলিফিশের ওপর পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আপসাইড-ডাউন জেলিফিশ হিসেবে পরিচিত কাসিওপিয়া অ্যান্ড্রমিডা ও সি অ্যানিমোন মানুষের মতো ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন থাকে। যদিও তাদের কোনো কেন্দ্রীয় মস্তিষ্ক নেই। গবেষণায় কাসিওপিয়া অ্যান্ড্রমিডা ও সি অ্যানিমোনের নড়াচড়া কমে যাওয়া ও বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার হার হ্রাস পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। এমনকি তাদের পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দিলে পরবর্তী সময়ে তারা বেশি বিশ্রাম বা গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে যায়।
কাসিওপিয়া অ্যান্ড্রমিডা ও সি অ্যানিমোনের কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা মস্তিষ্ক নেই। নরম টিস্যুজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুতন্ত্রই মস্তিষ্কের সব কাজ করে। এসব প্রাণী নিয়মিত বিশ্রাম নেয়। ঘুমের সময় তাদের নড়াচড়া ধীর হয়ে যায়। আলো বা স্পর্শে এরা সাড়া দিতে দেরি করে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কাসিওপিয়া অ্যান্ড্রমিডা ও সি অ্যানিমোনের ঘুমের ধরন এলোমেলো নয়। তারা দিনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় ঘুমিয়ে থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কাসিওপিয়া অ্যান্ড্রমিডা জেলিফিশের ঘুম মূলত আলোর ওপর নির্ভরশীল। রাতে এদের সক্রিয়তা কমে যায় এবং দিনে বাড়ে। অন্ধকার ঘরে এদের কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঘড়ি কাজ করে না, বরং আলোর উপস্থিতিই এদের ঘুমের সময় নির্ধারণ করে। অন্যদিকে সি অ্যানিমোনের আচরণ বেশ ভিন্ন। এরা সাধারণত ভোরে ও সন্ধ্যায় বেশি সক্রিয় থাকে। এদের ঘুম কেবল আলোর ওপর নয় বরং একটি অভ্যন্তরীণ সার্কাডিয়ান ক্লক বা জৈবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করে।
প্রাণীগুলোর স্নায়ুকোষ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেগে থাকার সময় এদের কোষে ডিএনএ ড্যামেজ বা ডিএনএর ক্ষয়ক্ষতি জমা হতে থাকে এবং ঘুমের সময় তা মেরামত হয়। কৃত্রিমভাবে তাদের ঘুম বাধাগ্রস্ত হলে ডিএনএর ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকে। আবার যখন তাদের ঘুমাতে দেওয়া হয়, তখন সেই ক্ষতি নাটকীয়ভাবে কমে আসে। এমনকি মেলোটোনিন নামের হরমোন প্রয়োগ করে দেখা গেছে, প্রাণীরা দ্রুত ঘুমে আচ্ছন্ন হচ্ছে এবং তাদের জিনগত চাপ কমছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া