মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে মৌচাকের মতো বহুভুজ আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো
মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে মৌচাকের মতো বহুভুজ আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো

মঙ্গল গ্রহের মৌচাকের মতো অদ্ভুত ভূতাত্ত্বিক গঠন নিয়ে রহস্য

মহাবিশ্বের অসীম অন্ধকার আর গ্রহগুলোর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে কোটি কোটি বছরের রহস্য। আর তাই বিজ্ঞানীরা যুগের পর যুগ ধরে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে চলেছেন। মঙ্গল গ্রহে অবতরণের দীর্ঘ ১৪ বছর পর নাসার কিউরিওসিটি রোভার একটি রহস্যময় ছবি পাঠিয়েছে। এই ছবিতে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে মৌচাকের মতো বহুভুজ আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো দেখা গেছে, যার রহস্য উন্মোচনে হিমশিম খাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসার তথ্যমতে, কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গল গ্রহের গেইল ক্রেটার এলাকায় গবেষণা করার সময় এই ছবি তুলেছে। অদ্ভুত ভূতাত্ত্বিক কাঠামোটি দেখতে বিশাল মৌচাকের উপরিভাগের মতো। এই এলাকার ভেতরের দিকে যাওয়ার পর দেখা যায়, বহুভুজাকৃতির পর্বতশিখাগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। এই পুরো এলাকায় নুড়ি থেকে শুরু করে মাঝারি আকারের কালচে রঙের পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই পাথরগুলো কীভাবে এখানে এল? এগুলো কি মঙ্গলের ওপরের কোনো স্তর থেকে নিচে নেমে এসেছে? নাকি গেল ক্রেটারের বাইরের কোনো দূরবর্তী আঘাতের ফলে এখানে ছিটকে পড়েছে? অথবা এগুলো কি মঙ্গল গ্রহের বাইরের কোনো উল্কাপিণ্ড?

বিজ্ঞানীদের কাছে আপাতত এই অদ্ভুত ভূতাত্ত্বিক কাঠামোটি গঠনের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গল গ্রহে শতকোটি বছর ধরে আগ্নেয়গিরির উদ্‌গিরণ ঘটেছে। সেখানে পানি প্রবাহিত হয়েছে। স্থানান্তরিত হয়েছে পলিমাটি। চলেছে বাতাসের ক্ষয়। জলবায়ুর বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। এসব প্রক্রিয়ার যেকোনো একটি অথবা সব প্রক্রিয়াই এই বহুভুজ আকৃতির কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই কাঠামোর গঠনপ্রক্রিয়া বুঝতে পারলে মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এই কালচে পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি তত্ত্ব রয়েছে। এগুলো ওপরের ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকে ভেঙে নিচে গড়িয়ে পড়তে পারে। এগুলো প্রাচীন কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলেও সৃষ্টি হতে পারে অথবা কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলে পড়া কোনো উল্কাপিণ্ডও হতে পারে। আগের রোভার অভিযানগুলোতে মঙ্গলে কালচে পাথর পাওয়া গিয়েছিল। সেই পাথরগুলোতে নিকেলের মতো খনিজ উপাদান ছিল। নিকেল সাধারণত উল্কাপিণ্ডে বেশি থাকে। মঙ্গলের সাধারণ পাথরে এটি খুব বিরল। নতুন পাওয়া এই পাথরগুলোর উপাদান একই কি না, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার গেল ক্রেটার অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। রোভারটি মূলত মঙ্গল গ্রহে পাথরের স্তর, প্রাচীন নদীগর্ভ ও খনিজ আমানত পরীক্ষা করছে। মঙ্গলে একসময় অণুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তা জানাই রোভারের মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া