
রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) প্রাঙ্গণে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) জাতীয় পর্ব। বিডিজেএসও স্কুল অলিম্পিয়াড এবং অনলাইন বাছাই পর্বের মাধ্যমে বাছাই করা প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেলে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
জাতীয় পর্বে মোট ৫৯ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তিনটি শ্রেণির সেরাদের সেরা তিনজনকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়। প্রাইমারি শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়াংশু ঋদ্ধি রায়, জুনিয়র শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা এবং সেকেন্ডারি শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহির আরিব।
সকাল আটটায় আইইউবিএটির প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্বের এই আয়োজন শুরু হয়। এরপর সকাল নয়টা থেকে শুরু হয় অলিম্পিয়াড পর্ব। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা পর্বে শিক্ষার্থীদের ছয়টি সংক্ষিপ্ত ও তিনটি বিশদ সমস্যাসহ মোট নয়টি সমস্যার সমাধান করতে হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুশতাক ইবনে আয়ুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল। খুদে বিজ্ঞানীদের ছুড়ে দেওয়া নানা প্রশ্নের প্রাণবন্ত উত্তর দেন তাঁরা।
বিকেলে বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুর রব। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বাংলাদেশি জিনবিজ্ঞানী, ধান–গবেষক ও লেখক আবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, এসিআই অদম্য মেধাবী কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি মুনির হাসান এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, ‘আজ যারা বিজয়ী হয়েছ, তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। এই ধরনের অলিম্পিয়াড তোমাদের পথ দেখাচ্ছে যে চেষ্টা করলে আমরাও পারি। আমরা তোমাদের এ ধরনের অলিম্পিয়াডের জন্য আরও উৎসাহিত করব।’
আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ রকম আয়োজনের দাওয়াত পেলে আমি তোমাদের জন্য ছুটে আসি। এসব তরুণ মেধাবীই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমরা শুধু এআই ব্যবহার করে প্রবলেম সলভ করবে না। এর সঙ্গে মেধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাবে। পড়ে বেশি বেশি প্রবলেম সলভ করবে। নতুন নতুন প্রশ্নের সমাধান বের করবে।
এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী। অতিথিরা একে একে তিনটি ক্যাটাগরির বিজদের মেডেল ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।
জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজন করা হবে ১২তম বিডিজেএসও জাতীয় অনাবাসিক ক্যাম্প, যেখান থেকে দল বাছাইয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য ছয়জনের বাংলাদেশ দল। দলটি বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
এবারের ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)। আয়োজক হিসেবে ছিল আইইউবিএটি। প্লাটিনাম স্পন্সর ছিল আনিসুল হক ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় ছিল বিডিওএসএন, ম্যাসল্যাব, রকমারি ডটকম ও এসিআই অদম্য মেধাবী। মিডিয়া ও ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, যমুনা টিভি, বিজ্ঞানচিন্তা এবং কিশোর আলো। জাতীয় পর্বের ফলাফল জানা যাবে বিডিজেএসওয়ের ওয়েবসাইটে।