স্কুইড
স্কুইড

সাগরে স্কুইডের সংখ্যা বাড়ছে যে কারণে

সাগরের বাস্তুতন্ত্রে গত এক শতাব্দীতে নানা পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে অদ্ভুতভাবে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী, বিশেষ করে স্কুইডের সংখ্যা। এত দিন অতিমাত্রায় মাছ শিকার ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সাগরে স্কুইডের সংখ্যা বাড়ছে বলে ধারণা করা হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দীর্ঘ ছয় দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, সাগরে স্কুইডের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। ধারণা করা হচ্ছে, বড় শিকারি মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বেড়ে চলেছে স্কুইডের সংখ্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

গবেষকদের তথ্যমতে, স্কুইডের সংখ্যা বৃদ্ধির আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে খাদ্যের সহজলভ্যতার ওপর। শিকারি মাছ কমে যাওয়ার কারণে ছোট মাছের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই ছোট মাছগুলো খেয়ে স্কুইড দ্রুত বড় হতে পারে। দ্রুত বৃদ্ধির চাহিদা মেটাতে স্কুইড প্রতিদিন তাদের শরীরের ওজনের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খাবার খায়। তবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে উল্টো স্কুইডের বায়োমাস কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে স্কুইড বেশি শক্তি খরচ করে খাবার খুঁজতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেই অনুপাতে খাবার পাওয়া যায় না। তাপমাত্রা এবং শিকারি মাছের অনুপস্থিতি ছাড়াও স্কুইডের দ্রুত জীবনচক্রের ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত এক বা দুই বছর বেঁচে থাকে স্কুইড।

পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে স্কুইডের। অতিরিক্ত মাছ শিকার বা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই বহুমুখী অভিযোজনক্ষমতাও সীমাহীন নয়। যদি খাদ্যের জোগান কমে যায়, তবে স্কুইডের এই বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়লে তাদের শারীরিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে স্কুইডের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মেরিন বায়োলজিস্ট রেমি ডেনেচার ও তাঁর দল অবশ্য ভিন্ন তথ্য জানিয়েছে। কম্পিউটারের ইকোসিস্টেম মডেল ব্যবহার করে তারা জানিয়েছে, স্কুইডের সংখ্যা বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন বা অতিরিক্ত মাছ শিকারের সম্পর্ক থাকার জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট