
ফ্যাশনপ্রেমীরা সব সময়ই ফ্যাশনের দুনিয়ায় যুগের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। তবে এবার সম্পূর্ণ উল্টো এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফ্যাশনের ধারাকে এগিয়ে নিতে তারা বর্তমান সময় থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বা সাড়ে ছয় কোটি বছর পিছনের অতীতে ফিরে গেছেন। প্রাগৈতিহাসিক যুগের টি-রেক্স ডাইনোসরের ডিএনএ কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম চামড়া তৈরির পর সেটি দিয়ে একটি হ্যান্ডব্যাগ বানিয়েছেন তাঁরা।
বায়োটেক প্রতিষ্ঠান দ্য অর্গানয়েড, ল্যাব-গ্রোন লেদার লিমিটেড এবং ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ভিএমএলের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের একটি গবেষণাগারে ডাইনোসরের এই কৃত্রিম চামড়া তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের প্রথম ডাইনোসরের চামড়ার হ্যান্ডব্যাগটি ফ্রান্সের প্যারিসে নিলামে তোলা হবে। নিলামে ব্যাগটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কয়েক কোটি টাকা।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় আবিষ্কার হওয়া টি-রেক্স ডাইনোসরের জীবাশ্ম বা ফসিল থেকে কোলাজেনের নামের একধরণের প্রোটিনের অংশ সংগ্রহ করা হয়েছিল। জীবাশ্মটি ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত নমুনাগুলোর অন্যতম, যার মধ্যে রক্তের প্রোটিন সংরক্ষিত ছিল। সেই প্রাচীন কোলাজেনের অংশটি ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ টি-রেক্স ডাইনোসরের কোলাজেন সিকোয়েন্স তৈরির পর সেটিকে কৃত্রিম চামড়ার কোষে প্রতিস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞানীরা চামড়ার মূল অবকাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির জন্য প্রধানত মুরগির প্রোটিন ব্যবহার করেছেন। বিবর্তনবাদের নিয়ম অনুযায়ী পাখির সঙ্গে ডাইনোসরের জিনগত মিল থাকায় এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। তবে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের দারুণভাবে চমকে দিলেও জীবাশ্মবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে এটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ও দ্বিমত তৈরি হয়েছে। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব তুরিনের প্রত্নতাত্ত্বিক জান ডেকার এই আবিষ্কারের সত্যতা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তারা আসলে যা করেছে, তা হলো একটি কৃত্রিম কোলাজেন তৈরি। এর জন্য তারা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সাহায্য নিয়েছে।
বিতর্ক যা–ই থাকুক না কেন, ফ্যাশন–দুনিয়ায় এই ব্যাগ নিয়ে এরই মধ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে। ডাইনোসরেরর কৃত্রিম চামড়া দিয়ে তৈরি হ্যান্ডব্যাগটির নকশা করেছে জার্মানির বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এনফিন লেভে।
সূত্র: ডেইলি মেইল