প্লাস্টিক থেকে তৈরি হবে হাইড্রোজেন জ্বালানি
প্লাস্টিক থেকে তৈরি হবে হাইড্রোজেন জ্বালানি

সৌর প্যানেলের মাধ্যমে প্লাস্টিককে হাইড্রোজেন জ্বালানিতে রূপান্তর করেছেন কেমব্রিজের গবেষকেরা

প্লাস্টিক দূষণ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য চরম হুমকি তৈরি করছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পলিথিন টেরেপথালেট বা পিইটি প্লাস্টিক থেকে মূল্যবান গ্রিন হাইড্রোজেন জ্বালানি তৈরির একটি সৌরচালিত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।

গবেষকদের তথ্যমতে, পানি বা অন্যান্য প্রচলিত উৎসের পরিবর্তে প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরির এ অভিনব প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিককে ছোট টুকরো করে কেটে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মেশানো হয় এবং ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ৩ দিন ধরে রাখা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক ভেঙে ইথিলিন গ্লাইকল নামক উপাদান আলাদা হয় যা পরে সৌর প্যানেল রিঅ্যাক্টরে সরবরাহ করা হয়। সৌর প্যানেলগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিবর্তে ফটোরিফর্মিং নামক একটি বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। প্যানেলের ওপর থাকা ফটোক্যাটালিস্ট প্রলেপ সূর্যের আলো শোষণ করে এবং তা কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করে।

গবেষকেরা প্রথমে ছোট প্যানেলে পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন এবং পরবর্তীকালে ৪টি বড় প্যানেল দিয়ে ১০ দশমিক ৮ বর্গফুটের একটি আউটডোর রিঅ্যাক্টর তৈরি করেন। বড় রিঅ্যাক্টরে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এ পদ্ধতির সাহায্যে বড় পরিসরেও হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউসুফ হামিদ ডিপার্টমেন্ট অব কেমিস্ট্রির গবেষক ও গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক আরিফিন বিন মোহাম্মদ আনুয়ার বলেন, ‘আমরা যখন এ প্রযুক্তিকে বড় পরিসরে বা ব্যাপক মাত্রায় প্রয়োগের চেষ্টা শুরু করলাম, তখন দ্রুতই বুঝতে পারলাম যে ছোট পরিসরে যা সহজ মনে হয়, বড় পরিসরে তা উৎপাদন করতে গেলে মোটেও আর সহজ থাকে না। এসব প্যানেল তৈরির জন্য আমরা বিশাল আকারের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করতে পারি না; কারণ ব্যাপক উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।’

বর্তমানে শিল্পকারখানায় তেল পরিশোধন ও ইস্পাত তৈরির কাজে হাইড্রোজেনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত হাইড্রোজেনের মাত্র ১ শতাংশ গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়; যার ফলে প্রচুর কার্বন ডাই–অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন এ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ধরনের কার্বন নির্গমন ছাড়াই গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারলে তা বৈশ্বিক কার্বন পদচিহ্ন কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

নিজেদের তৈরি বিশেষ সোলার প্যানেল দেখাচ্ছেন গবেষকেরা

গবেষকেরা এমন একটি বিশেষ সোলার প্যানেল তৈরি করছেন যা ভবিষ্যতে প্লাস্টিককে হাইড্রোজেন জ্বালানিতে রূপান্তরের পাশাপাশি বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সোলার প্যানেলটি মূলত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে কাজ করে যার ফলে দৃশ্যমান আলোর অংশটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব।

সূত্র: বিজিআর ডটকম, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়