
২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তবে এই অভিযানের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ’–এর ওপর। আর তাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর আগে স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক ফ্লাইট নিয়মিত পরিচালনা করছে স্পেসএক্স। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সাউদার্ন টিপে অবস্থিত স্টারবেস কেন্দ্র থেকে সফলভাবে স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ করেছে স্পেসএক্স। এটি ছিল স্টারশিপের ১৩তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট এবং চলতি বছরে দ্বিতীয় পরীক্ষা কার্যক্রম।
৪০৭ ফুট লম্বা এই মেগা রকেটটি আকাশে উড্ডয়নের পর পৃথিবীর অর্ধেক পথ অতিক্রমের পাশাপাশি ২০টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করেছে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর ভারত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করেছে রকেটটি। আগের পরীক্ষামূলক ফ্লাইট অবতরণের সময় রকেটে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে এবারই প্রথম সবচেয়ে নিখুঁতভাবে রকেটটির বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।
স্পেসএক্সের প্রকৌশলী কেট টাইস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সফলতায় আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত। উৎক্ষেপণ করা ছয়টি স্টারলিংক স্যাটেলাইটে বিশেষ ক্যামেরা রয়েছে। এগুলো রকেটের হিট শিল্ড বা তাপ নিরোধক বর্মের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাতে পারে।’
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, এই মিশন থেকে যা যা শেখা যাবে, তা দেখার জন্য আমি অত্যন্ত উত্তেজিত। নাসার আর্টেমিস ৩ মিশনের জন্য স্টারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরগুলোতে চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর অভিযানে এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটটি ব্যবহার করা হবে।
সূত্র: ফিজ ডট অর্গ