সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে উষ্ণ পানির সম্প্রসারণের ভূমিকা রয়েছে
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে উষ্ণ পানির সম্প্রসারণের ভূমিকা রয়েছে

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে যে কারণে

মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে পৃথিবী অনন্য তার বিশাল জলরাশির কারণে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন সেই সমুদ্রই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। হিমবাহ গলে যাওয়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলেও এর চেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সমুদ্রের পানির ধীর ও অবিরাম সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় থার্মাল এক্সপ্যানশন বা তাপীয় সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সমুদ্রের পানি যত গরম হচ্ছে, তত বেশি জায়গা দখল করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানির কণাগুলো প্রসারিত হয়ে সমুদ্রের পানির সামগ্রিক আয়তন বেড়ে যায়।

বর্তমানে বরফ গলে যাওয়া এবং সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার পুরোপুরি মেলে না। নতুন এই গবেষণা সেই অমিল বা ফাঁকটুকু দূর করেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট টমাসের বিজ্ঞানী জন আব্রাহাম জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ ও পেছনের কারণগুলোর প্রভাবের মধ্যে একটি হতাশাজনক অমিল ছিল। নতুন গবেষণায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী প্রধান কারণগুলোর সুনির্দিষ্ট অনুপাত বের করেছেন। তাঁদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি দায়ী প্রায় ৪৩ শতাংশ। পার্বত্য অঞ্চলের হিমবাহ গলে যাওয়া ২৭ শতাংশ, গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়া ১৫ শতাংশ ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়া ১২ শতাংশের জন্য দায়ী। বাকি ৩ শতাংশ পরিবর্তন হচ্ছে স্থলভাগের পানি জমার কারণে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে সমুদ্রের উষ্ণ পানির সম্প্রসারণ। এরপরই রয়েছে হিমবাহের গলে যাওয়া। আর তাই এবার সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার প্রায় নির্ভুলভাবে মেলানো সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: সায়েন্সঅ্যালার্ট