নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার
নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার

মঙ্গল গ্রহে প্রাচীন সৈকতের সন্ধান

লাল গ্রহ মঙ্গলের বুকে এক প্রাচীন সৈকতের সন্ধান পেয়েছে নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার। সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের এই স্থানে একটি বিশাল হ্রদ ছিল।

নতুন এ আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানীদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। প্রাচীন সৈকত ইঙ্গিত দেয় অতীতে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ বর্তমানে আমরা যেমনটা দেখি তার চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য এবং অনেকটা পৃথিবীর মতোই ছিল। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’–এ প্রকাশিত হয়েছে।

পারসিভিয়ারেন্স রোভার ২০২১ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটার স্থানের পাথরের তথ্য সংগ্রহ করছে। ইম্পেরিয়াল কলেজের পিএইচডি গবেষক অ্যালেক্স জোন্স জানান, মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের মার্জিন ইউনিট এলাকায় ঢেউয়ের আঘাতে তৈরি প্রাচীন সৈকত ও ভূগর্ভস্থ পানির প্রভাবে পরিবর্তিত পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এখানকার পাথুরে স্তরে অলিভাইন ও কার্বোনেট খনিজের গোলাকার বালুকণা রয়েছে। এসব মূলত একটি প্রাচীন উপকূলরেখা বা তটরেখার অস্তিত্ব প্রমাণ করে। স্থানীয় শিলাস্তর দেখে মনে হয়, তা একসময় উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষয়ে গিয়েছিল।

পৃথিবীতে উপকূলরেখা বা সমুদ্রসৈকত হলো প্রাণের বিকাশের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ। সেখানে গঠিত কার্বোনেট খনিজগুলো প্রাকৃতিকভাবেই প্রাচীন পরিবেশের তথ্য জমা করে রাখতে পারে। এ বিষয়ে অ্যালেক্স জোন্স বলেন, ‘আমাদের এই অনুসন্ধান মঙ্গলের অতীত জলবায়ু এবং বাসযোগ্যতা নিয়ে রোমাঞ্চকর তথ্য দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে মঙ্গল গ্রহের শান্ত হ্রদের পরিবেশ আমরা আগে যা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক আগে থেকে বিদ্যমান ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতীতে মঙ্গলের জলবায়ু অনেকটা পৃথিবীর মতো ছিল।’

আরেক গবেষক সঞ্জীব গুপ্ত জানান, এই মার্জিন ইউনিটে শিলাগুলোর পরিবর্তনের ধরন নির্দেশ করে যে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ ছিল। পৃথিবীতে এ ধরনের ভূগর্ভস্থ হাইড্রোথার্মাল পরিবেশ অণুজীব জীবনকে সহায়তা করার জন্য পরিচিত।

সূত্র: এনডিটিভি