জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা

হিউম্যান ইন এআই উইক উপলক্ষে র‍্যালি

এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা তৈরির ডাক

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এআই যেমন নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগের দুয়ার খুলে দিয়েছে, ঠিক তেমনি তৈরি করেছে নানামুখী সংকট ও সামাজিক ঝুঁকি। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত র‍্যালির আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম এআই কালেকটিভের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। বিশ্বব্যাপী ‘হিউম্যান ইন এআই উইক’–এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই র‍্যালিতে এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

র‍্যালির আগে এআই কালেকটিভ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড মোহাম্মদ আসিফ বলেন, এআইয়ে সুবিধার পাশাপাশি সংকট ও ঝুঁকিও রয়েছে। এআই কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে ফিশিং স্ক্যাম ও আর্থিক জালিয়াতি করছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আর তাই বাংলাদেশে এআই নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রযুক্তি যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা বাধ্যতামূলক। এআই যেন মানুষের বিকল্প বা মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার এখনই সময়। সাধারণ মানুষ যদি এই প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে সচেতন না হন, তবে অপরাধীরা এই সরলতার সুযোগ নেবে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে যেমন কঠোর আইনি কাঠামো প্রয়োজন, ঠিক তেমনি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাকাজে এআইয়ের যথেচ্ছ ব্যবহার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা মারাত্মকভাবে লোপ পাচ্ছে। এই সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল মুখস্থ বা তথ্যভিত্তিক পরীক্ষার বাইরে গিয়ে বাস্তবমুখী ও যৌক্তিক মূল্যায়নের দিকে নজর দিতে হবে।

র‍্যালিতে অংশ নিয়ে প্রযুক্তিপেশাজীবী মো. আজিজুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটে ডিপফেক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা হতে দেখছি।

এআই কালেকটিভ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য এহসানুর রহমান বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন এই প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরির কাজ করতে হবে। সমাজের কল্যাণে এআইয়ের বহুমুখী ব্যবহারকে উৎসাহ দিতেই এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এআইয়ের ব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে ৫০টি দেশের দুই শতাধিক শহরে ‘হিউম্যান ইন এআই উইক’ আয়োজন করা হয়েছে। র‍্যালিতে প্রযুক্তিপেশাজীবী, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।