
বিপদে পড়লে বা যেকোনো জরুরি মুহূর্তে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ইমার্জেন্সি এসওএসের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বন্ধু, পরিবার বা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে নিজের অবস্থানের তথ্য, আশপাশের ভিডিও ধারণ ও জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে বার্তা বা সংকেত পাঠানো যায়। তবে জরুরি মুহূর্তে হাতের কাছে ফোন না থাকলে বা ফোনের বোতাম চাপতে না পারলে বিপদে পড়া ব্যক্তির পক্ষে সহায়তা চাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ফোন স্পর্শ না করেই জরুরি সহায়তা চাওয়ার সুবিধা আনতে কাজ করছে গুগল। নতুন এই সুবিধা চালু হলে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইমার্জেন্সি এসওএস ব্যবস্থা সক্রিয় করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যান্ড্রয়েড অথরিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের পারসোনাল সেফটি অ্যাপের কোডে নতুন এই সুবিধার সম্ভাব্য কার্যকারিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। অ্যাপের কোডে পাওয়া একটি অ্যানিমেশন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পরপর তিনবার ‘হেল্প’ বললে ফোনে জরুরি সহায়তা চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে কণ্ঠস্বর শনাক্ত করা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সুবিধাটি কাজ করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কোডে পাওয়া কিছু বার্তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জরুরি সহায়তা চালুর আগে ফোনে মৌখিকভাবে সম্মতি জানানোর সুযোগ থাকবে। সে ক্ষেত্রে ‘ইয়েস’ বললে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাবে। আর ‘ক্যানসেল’ বললে তা বন্ধ করা যাবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুলবশত জরুরি সংকেত পাঠানোর ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
অ্যানিমেশনে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা, জরুরি পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ ও জরুরি সেবায় ফোন করার মতো কার্যক্রমের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে নতুন সুবিধাটি চূড়ান্তভাবে চালু হলে এসব কার্যক্রম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পাওয়ার বোতাম দ্রুত পাঁচবার চাপলে ইমার্জেন্সি এসওএস চালু করা যায়। ফোনের মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী, এরপর ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত করতে হতে পারে যে তিনি সত্যিই জরুরি সহায়তা চাইছেন। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন সুবিধাটি চালু হলে এসব কার্যক্রম শুরু করার জন্য ফোনের বোতাম চাপার প্রয়োজন না–ও হতে পারে।
সূত্র: নিউজ১৮