রাত ১১টা। ‘আর একটা রিল দেখেই ঘুমাব’—এই কথা বলে সাবিহা (ছদ্মনাম) ফোন হাতে নিয়েছিলেন। এখন ঘড়িতে রাত ১টা। কীভাবে দুই ঘণ্টা কেটে গেল, তিনি নিজেও জানেন না!
এর পেছনে কাজ করছে সুপারিশ ব্যবস্থা বা রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম, অর্থাৎ ধাপে ধাপে হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক সেট নিয়ম। আপনি কোন ভিডিওতে থামলেন, কতক্ষণ দেখলেন, কোনটায় লাইক দিলেন, কোনটা শেয়ার করলেন—সবই খেয়াল রাখা হয়। তারপর অনুমান করে, পরের কোন ভিডিওটা আপনাকে আরও কিছুক্ষণ আটকে রাখতে পারবে, সেভাবেই সেটা পরামর্শ দেয় বা সাজেস্ট করে।
২০২৬ সালের এক গবেষণায় তরুণ ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা মানসম্মত কনটেন্ট চান। কিন্তু অ্যালগরিদম গুরুত্ব দেয় কনটেন্ট কতটা সাড়া ফেলছে, সেটাকে। অর্থাৎ আপনি যা সত্যিই চান আর যে কনটেন্টে নিজের অজান্তে আটকে যান—এ দুটো সব সময় এক নয়। আর ‘যন্ত্র’ সেই ফারাকটাই সব সময় বোঝে না।
ফলাফল? আপনার ফিড ধীরে ধীরে একই ধরনের কনটেন্টে ভরে ওঠে। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল বা বাংলা করলে পছন্দের বুদ্বুদ। তখন নতুন তথ্য বা ভিন্নমত আপনার চোখেই পড়ে না। শুধু অ্যালগরিদম যা দেখায়, তা-ই দেখতে হয়।
নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনুন
১. অপছন্দের ভিডিওতে ‘আগ্রহী নই’ বেছে নিন। ২. মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে নতুন বিষয় খুঁজে দেখুন। ৩. অ্যাপে অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকলে ব্যবহার করুন।
ফিড কি আপনাকে চালাচ্ছে, নাকি আপনি ফিডকে? সিদ্ধান্তটা এখনো আপনারই আছে।
লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর