দখলে-দূষণে বেহাল, ঢাকার কুতুবখালী খাল কি টিকে থাকবে

একসময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও শনির আখড়া এলাকার বৃষ্টির পানি কুতুবখালী খাল হয়েই গিয়ে পড়ত শীতলক্ষ্যা ও বালু নদে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে খালটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। খালের দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। কোথাও দোকান, কোথাও ঘরবাড়ি, আবার কোথাও ফেলা হচ্ছে নির্মাণবর্জ্য। খালের ভেতর জমে আছে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি আবর্জনা। কালো পানির ওপর ভাসছে ময়লার স্তর, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মাঝেমধ্যে খালটি পরিষ্কার করে। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পরিষ্কারের কিছুদিন পরই খালটি আগের রূপে ফেরে। তদারকির অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং অব্যাহত দখল-দূষণে স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।

আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে কুতুবখালী খাল। শনির আখড়ার গোবিন্দপুর এলাকার মৃধাবাড়ি সড়ক অংশ থেকে তোলা ছবি।
আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে কুতুবখালী খাল। শনির আখড়ার গোবিন্দপুর এলাকার মৃধাবাড়ি সড়ক অংশ থেকে তোলা ছবি।
খালের পানি আলকাতরার মতো কালো, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। শনির আখড়া-মৃধাবাড়ি সড়কের অপর পাশে ডেমরামুখী অংশের চিত্র।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া অংশে খাল বেহাল হয়ে আছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন খালের এই অংশ পরিষ্কার করেছিল। এক দিন পার না হতেই আবার ময়লায় ভরে গেছে খাল।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক–সংলগ্ন শনির আখড়া কাঁচাবাজার এলাকায় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে খালের বড় একটি অংশ।
কুতুবখালী খালের দুই পাশ দোকানপাটের দখলে। সরু অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
দিনের পর দিন ময়লা-আবর্জনা জমে কুতুবখালী খালের অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে জন্মেছে ঘাস ও লতাগুল্ম।
পানির রং কালো কুচকুচে আর তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে খাল থেকে।
যাত্রাবাড়ী আড়ত–সংলগ্ন অংশে খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে খাল পরিষ্কার করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।