অস্ট্রেলিয়ার হিম হিম শীতে গতকাল মঙ্গলবারের সকাল শুরু হয়েছিল আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই। সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলে ব্যস্ত হতে শুরু করেন। আর তখনই গোটা দেশ গরম হয়ে ওঠে নাটকীয় রাজনৈতিক খবরে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল নেতা হিসেবে যোগ্য নন বলে দাবি ওঠে। আর সেটা প্রমাণে তাঁকে চ্যালেঞ্জও করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অযোগ্যতার দাবি তোলেন তাঁর নিজ সভাসদদেরই একজন, অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন। গতকাল সকালে টার্নবুলের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেন ডাটন। আর সকাল সকালই ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির দলীয় কার্যালয়ে নির্দিষ্ট সদস্যদের দ্বারা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ভোটের ফলাফলে অল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাননি টার্নবুল। কিন্তু রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৮-৩৫ ভোটে হেরে গিয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা নিয়েছেন ডাটন। মন্ত্রী স্কট মরিসনকে ডাটনের স্থলাভিষিক্ত করার সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল। এ ছাড়া দিনভর ঘটতে থাকে আরও অনেক নাটকীয় ঘটনা। কখনো আরও মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিগগিরই আবার প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না, এসব খবরে সরগরম ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রধান গণমাধ্যম।
ডাটনের প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করা, ভোটে হেরে যাওয়া এবং মন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়া সবকিছুই খুব দ্রুত ঘটে যায়। দিনের আলো ফুটতেই দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ গরম হয়ে উঠে। দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ সারা দিন নানা রাজনৈতিক সংবাদ প্রচার করে।
এদিকে ডাটনের মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করার পরপরই লিবারেল দলের আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তাঁদের পদ থেকে সরে যেতে চান। সবার আগে মাইকেল সুকার তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেন। এরপর একে একে অনেকেরই ইস্তফাপত্র জমা পড়ে পার্টি অফিসে। ইস্তফা চাওয়া সকলেই পিটার ডাটনের পক্ষ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের পদত্যাগ মঞ্জুর করেছেন দলের প্রধান টার্নবুল। তবে টার্নবুলের জয়ের পেছনে অর্থমন্ত্রী ম্যাথিয়াস কোরম্যানের হাত রয়েছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম রাজনৈতিক কলামিস্ট ডেভিড ক্রু। আজ বুধবার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এ প্রকাশিত আজ তাঁর এক লেখায় তিনি বলেন, ম্যাথিয়াসের হাতে টার্নবুলের ভবিষ্যৎ রয়েছে। কেননা, ম্যাথিয়াস দলের এমন একজন নেতা, যিনি সবচেয়ে বেশি অন্যদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। ডেভিড আরও বলেন, ‘গতকাল যদি ডাটন ম্যাথিয়াসের সমর্থন পেতেন তবে আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী হতেন পিটার ডাটন। তবে গতকালের এ রাজনৈতিক পরিস্থিতে লিবারেল দলের টার্নবুলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের কোনো মদদ রয়েছে কি না, এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। আর বিরোধী দলের প্রধান নেতা বিল শর্টেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের ফলে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ে, এ ছাড়া কোনো লাভ হয় না।