কেরালায় 'ইঁদুর জ্বর' আতঙ্ক

বন্যাকবলিত কেরালা রাজ্যের আংশিক দৃশ্য। ১৭ আগস্ট। ছবি: রয়টার্স
বন্যাকবলিত কেরালা রাজ্যের আংশিক দৃশ্য। ১৭ আগস্ট। ছবি: রয়টার্স

ভারতের দক্ষিণের বন্যাবিধ্বস্ত রাজ্য কেরালায় এখন বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া লোকজনও ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। তবে এরই মধ্যে রাজ্যজুড়ে ‘র‌্যাট ফিভার’ বা ‘ইঁদুর জ্বর’ আতঙ্ক।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা সরকারিভাবে বলা হয়েছে ১৫। তবে একই উপসর্গে আরও ৪০ জনের মৃত্যুর কথা জানা গেলেও চিকিৎসকেরা তা নিশ্চিত করেননি। র‌্যাট ফিভারে রাজ্যজুড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

কেরালা রাজ্য সরকার ইজানিয়েছে, র‌্যাট ফিভারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাজ্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। প্রস্তুত রাখা রয়েছে রাজ্যের সব হাসপাতালকে।

এবার এই জলবাহিত র‌্যাট ফিভারের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে কেরালার কোঝিকোড় জেলায়। এই রোগ নিরাময়ের জন্য এখানের কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোলা হয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড। সাধারণত বর্ষাকালে ধানখেতে জল বাড়লে এই রোগের প্রকোপ বাড়ে। আর কৃষকদের মধ্যেই এই রোগের প্রবণতা বেশি। সাধারণত, অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই এই রোগ সেরে যায়।

একটি কলেজে বন্যার্ত মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। আলুভা, কেরালা, ২০ আগস্ট। ছবি: রয়টার্স

র‌্যাট ফিভার হলো পানিবাহিত একটি রোগের নাম। আর চিকিৎসকদের ভাষায় এই রোগের নাম ‘লেপ্টোস্পাইরোসিস’। এই রোগ সাধারণত পশুদের মধ্যে হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত পশুদের মূত্র থেকে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা বলেছেন, এই নিয়ে অযথা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে এই রোগ মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধপথ্য পাঠানো হয়েছে।

এবারের বন্যায় কেরালায় প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ৫০ লাখের বেশি মানুষ। এখন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া লোকজন ঘরে ফিরছে।