মমতার ডিজিটাল সৈনিক 'কাউন্টার অ্যাটাক' দেবে বিজেপিকে

দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে তৃণমূল আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন যুব তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে তৃণমূল আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন যুব তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) রুখতে এবার পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল বিপ্লবের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও যুব তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনই বলছেন, ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে এবার হটাতে হবে বিজেপি ও আরএসএসকে।

এই লক্ষ্যে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১০০ জন করে ‘ডিজিটাল সৈনিক’ তৈরি করতে হবে বলে জানান মমতা। তাঁরা এই ডিজিটাল বিপ্লবের মূল কান্ডারি হবেন। প্রয়োজনে তাঁরা বিজেপির ফেসবুক পেজে ঢুকে ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ করবেন।

গতকাল সোমবার দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে তৃণমূল আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দিয়েছেন মমতার ভাইপো ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই একই মঞ্চে মমতা উপস্থিত না হলেও তাঁর ধারণকৃত ভাষণ মাইক্রোফোনের মাধ্যমে শোনানো হয়।

সেই ভাষণে মমতা বলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একদিকে প্রচারের জন্য তৃণমূলের সড়ক বিপ্লব চলবে, অন্যদিকে চলবে ডিজিটাল বিপ্লব। এই দুয়ের মাধ্যমে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিতে হবে। ছিনিয়ে আনতে হবে বিজেপির জয়কে। মমতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সৈনিকদের অস্ত্র ধরতে হবে। যোগ্য জবাব দিতে হবে। বিজেপিকে এই জবাব দিয়ে “নব্য ভারত” প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে তাই ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করে ১০ শতাংশ ভোট বেশি আদায় করতে হবে।’

মমতা নির্দেশ দেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করা চলবে না। ভুয়া খবর নজরে এলে পুলিশকে জানাতে হবে। ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে হিন্দি ভাষার ওপর জোর দিতে হবে। ভুয়ো খবর ধরিয়ে দিতে পারলে দেওয়া হবে সরকারি পুরস্কার।

মমতার ধারণকৃত ভাষণ প্রচারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ১০০ জন করে তৃণমূলের ডিজিটাল সৈনিক তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে এই সৈনিকদের বিজেপির ফেসবুক পেজে ঢুকে কাউন্টার অ্যাটাক করতে হবে। ডিজিটাল প্রচারে বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তৃণমূলের সেই টাকা নেই। তাই বিজেপিকে রুখতে আমাদের ডিজিটাল সৈনিক তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক সৈনিকের কাজ হবে সপ্তাহে ১২ জনকে তৃণমূলমুখী করা।’ সেলফি না তোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে নেতারা আজ আপনাকে পছন্দ করছেন, তাঁরা ১৫ দিন পর আপনাকে পছন্দ না-ও করতে পারেন। তাই কাজ করুন। ভালো কর্মীদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে বের করে নেবে দল।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূলে দুই, তিন, চার বলে কিছু নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক এবং অদ্বিতীয়। “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ” বলতে হবে না। কোনো দাদা-দিদিরও জিন্দাবাদ বলতে হবে না। শুধু বলতে হবে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ”। একবার নয়, ১০০ বার বলুন।’

অভিষেক বলেন, ‘এই বাংলায় এখন ভোটদাতার সংখ্যা সাড়ে ছয় কোটির আশপাশে। তার মধ্যে প্রায় তিন কোটি ভোটদাতা তৃণমূলকে ভোট দেন। এবার এই ডিজিটাল সৈনিকেরা ভোটারের সংখ্যা চার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঠে নামবেন।’

বিজেপির হিন্দুত্ববাদ নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমি একজন হিন্দু, পইতা ধারণ করি। রোজ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করি। কিন্তু আমি স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি। যোগী আদিত্য নাথের হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি না।’