সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত গেটিসবার্গ বক্তৃতার ১৫০ বছর পূর্তি ছিল গতকাল মঙ্গলবার। দিনটি স্মরণ করতে পেনসেলভেনিয়ার গেটিসবার্গ নগরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে।
১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন আব্রাহাম লিংকন। গৃহযুদ্ধের উত্তপ্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে মাত্র ২৭২ শব্দের এ বক্তৃতা দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ও মার্কিন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে লিংকনের এ বক্তৃতাকে মাইলফলক বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের কাছে গেটিসবার্গ বক্তৃতা এখনো পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।
ওই বছরের জুলাই মাসে গেটিসবার্গ নগরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর চার মাস পর এ নগরে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট লিংকন রাষ্ট্রের অধীনে ব্যক্তি ও জাতি-গোষ্ঠীর সাম্যের কথা বলেছিলেন। জনগণ কর্তৃক, জনগণ দ্বারা ও জনগণের জন্য শাসনের অমিয় বাণী উচ্চারণ করেছিলেন তিনি।
স্মরণসভায় পেনসেলভেনিয়ার গভর্নর টম গরভেট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট লিংকন তাঁর বক্তৃতা আমাদের বুকে ধারণ করিয়ে দিয়ে গেছেন, যা মার্কিন জাতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।’
মার্কিন গৃহযুদ্ধের ইতিহাসবিদ জেমস ম্যাকপারসন বলেন, প্রেসিডেন্ট লিংকনের বক্তৃতাটি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। এ বক্তৃতার মর্ম ধারণ করে মার্কিন জাতি আজও তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন্টোনিন স্কেলিয়া দিবসটি স্মরণে গেটিসবার্গ নগরে ১৬ জন নতুন অভিবাসীকে নাগরিকত্বের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নাগরিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে।