চেরনোবিল দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিচ্ছেন চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিকোলাই সলোভিভ। গত শুক্রবার ইউক্রেনের স্লাভুতিচ শহরে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিচ্ছেন চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিকোলাই সলোভিভ। গত শুক্রবার ইউক্রেনের স্লাভুতিচ শহরে

চেরনোবিল বিপর্যয়ের ৪০ বছর

পারমাণবিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে আরও বেশি দেশ

চেরনোবিল বিপর্যয়ের ৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ রোববার। জাতিসংঘের মতে, এ দুর্ঘটনায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমি দূষিত হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিলের ৪ নম্বর চুল্লিটি বিস্ফোরিত হয়, যখন ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ওই দুর্ঘটনায় নিকটবর্তী এলাকাগুলো দূষিত হয় এবং পুরো ইউরোপে বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এ ঘটনার পরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে।

বর্তমানে ৩১টি দেশে ৪০০টির বেশি পারমাণবিক চুল্লি সচল রয়েছে, পাশাপাশি আরও প্রায় ৭০টি নির্মাণাধীন। বিশ্বের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ আসে পারমাণবিক শক্তি থেকে, যা কিনা সব ধরনের স্বল্প কার্বনশক্তি উৎসের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।

১৯৮৬ সালের চেরনোবিল বিপর্যয় পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল এবং ইউরোপসহ অন্যান্য স্থানে এর উন্নয়নকে ধীর করে দিয়েছিল। তবে চার দশক পর বিশ্বজুড়ে এর পুনর্জাগরণ ঘটছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এটি বড় ধরনের গতি পেয়েছে।

পারমাণবিক চুল্লিগুলোর প্রযুক্তিতে ক্রমে উন্নতি হয়েছে, যোগ করা হয়েছে আরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং এগুলো নির্মাণ ও পরিচালনা এখন আরও সাশ্রয়ী।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, চেরনোবিল এবং ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় এই শক্তির প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিলেও কয়েক বছর আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এর পুনর্জাগরণ ঘটতে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ফাতিহ আরও যোগ করেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, পারমাণবিক শক্তি ফিরে আসছে।’

বিরল বলেন, ‘একে একটি নিরাপদ বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তির অত্যন্ত শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখতে পাব।’

পারমাণবিক শক্তির ওপর নির্ভরতা অটুট

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তর পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকারী দেশ। ৯৪টি সচল চুল্লির মাধ্যমে তারা বিশ্বের মোট পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ উৎপাদন করে। দেশটি ২০৫০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা চার গুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

গত মাসে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট টমাস ডিনান্নো বলেন, পারমাণবিক শক্তি ছাড়া বিশ্ব তার শিল্পকারখানা চালাতে পারবে না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা মেটাতে পারবে না অথবা তার জ্বালানি–ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারবে না।

চীন ৬১টি পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনা করছে এবং নতুন ইউনিট নির্মাণে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ৪০টি চুল্লি নির্মাণাধীন রয়েছে, যাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে পারমাণবিক সক্ষমতায় বিশ্বসেরা হওয়া।