
আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের অনুমোদন দিয়েছে তালেবান। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় দল পাঠানোর অনুমোদন পেয়েছি আমরা।’
গত ১৫ আগস্ট তালেবানের কাছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন হয়। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। ৩০ আগস্ট চূড়ান্তভাবে কাবুল ছাড়ে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটে।
দুই দিনের মধ্যেই তালেবান সরকার ঘোষণা করতে পারে। তাদের সরকার ও শাসনের প্রকৃতি কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলায় তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়। প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে তালেবান আফগানিস্তানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি নিষ্ঠুরতার জন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়। তারা তখন অনেক খেলাধুলাসহ বিনোদনের অধিকাংশ ধরন নিষিদ্ধ করেছিল। তখন তারা দেশটির স্টেডিয়ামগুলো প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান হিসেবে ব্যবহার করত।
কিন্তু এবার ক্ষমতা দখলের পর এখন ক্রিকেট খেলার অনুমতি দিতে সম্মত হলো তালেবান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন শাসনামলে দেশটির ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো যথারীতি চলবে বলে এখন আশা তৈরি হয়েছে।
এএফপির খবরে বলা হয়, তালেবানের অনেক যোদ্ধার মধ্যে ক্রিকেট বেশ জনপ্রিয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তানের টেস্ট ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারিত আছে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর। এই ম্যাচ গত বছর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তা স্থগিত করা হয়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলে, তা হবে অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট।
আফগানিস্তানের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। ১৭ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বিশ্বকাপ হবে।
আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি আরও বলেন, আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে যাবে।