ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলায় গাজার একটি বহুতল ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। জবাবে হামাস রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন শতাধিক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামলায় হামাসের গাজা সিটি কমান্ডার বাসেম ইসাসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। গাজা সিটি সংলগ্ন তেল আল-হায়া শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা মা তাঁর শিশুসহ নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এবার হামলা শুরুর হওয়ার এ পর্যন্ত ১৬ শিশুসহ ৬৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক ফিলিস্তিনি। তাদের অনেকেরই অবস্থা গুরুতর।
এদিকে গাজা থেকে ইসরায়েলে ছোড়া রকেট হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, ফিলিস্তিন থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে প্রায় দেড় হাজার রকেট ছোড়া হয়েছে।
গাজায় অবস্থানরত আল জাজিরার একজন সাংবাদিক বলেন, গাজায় রাস্তাঘাট ফাঁকা। হামলায় হতাহতদের নিয়ে শুধু অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আল মিজান জানায়, শুধু মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় গাজার ১৬টি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবারও অন্তত পাঁচটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের লড শহরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলিরা। ইসরায়েলের এই শহরটির বাসিন্দাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ফিলিস্তিনি। আগেই এই শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলিদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ফিলিস্তিনিদের দোকান-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।