তালেবানের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন নারী উপস্থাপকেরা

এভাবেই মুখ ঢেকে খবর উপস্থাপন করতে হচ্ছে আফগানিস্তানের নারী উপস্থাপকদের।
ছবি : এএফপি

আফগানিস্তানের টেলিভিশনে একটি পরিচিত মুখ মাহিরা। প্রতি রাতে তাঁর উপস্থাপনা করা সংবাদ দেখতে অনেকেই টিভি চালু করেন। দেশটির সাম্প্রতিক উত্তাল ঘটনার সময়ও ২৭ বছর বয়সী এই নারী সংবাদ উপস্থাপনা করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তালেবান মুখ ঢেকে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশ জারি করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার আল–জাজিরাকে তিনি বলেছেন, তালেবানের এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তালেবানের নির্দেশে গত শনিবার মাহিরা মুখ কালো পর্দায় ঢেকে সংবাদ পাঠ করেন। ওই ঘটনা সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দেয়। আল জাজিরাকে মাহিরা বলেন, ‘গত শনিবার ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন। আমার তখন মনে হয়, আমাকে যেন জীবন্ত দাফন করা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে আমরা যেন মানুষই না। আমার মনে হয়েছে, আমি আফগানিস্তানে নারী হিসেবে জন্মে বড় ধরনের কোনো অপরাধ করে ফেলেছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহিরা আরও বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের আইন টিভিতে নারীকে মুখ ঢাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে? ইসলামিক দেশগুলোতেও নারী সংবাদ উপস্থাপককে মাস্ক পরতে হয় না।’

তালেবানের ওই নির্দেশ আফগান নারীদের জন্য কঠিন পদক্ষেপ। মাহিরা বলেন, ‘ওই আদেশ খুবই হৃদয়বিদারক।’ নারীদের খারাপ পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে ওই নারী সাংবাদিক বলেন, ‘এটাই প্রতিবাদ। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।’

মাহিরার মতোই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ২৩ বছর বয়সী নারী উপস্থাপক সুজান। ২০১৯ সাল থেকে গণমাধ্যমে কাজ করা সুজান বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছিলাম। প্রতিটি খাতে ক্রমবর্ধমান নারী উপস্থিতিসহ মুক্ত গণমাধ্যম পেয়েছিলাম। কিন্তু দেখুন, এখন কোথায় আমরা। এমন একটি দেশে আমরা এখন রয়েছি যেখানে নারী হিসেবে আমি কী পরব, কোন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করব তা পছন্দ করার অধিকার নেই।’

সুজান জানান, তালেবান সরকার সাংবাদিকদের জন্য ১১টি নিয়ম জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কোনো প্রতিবেদন টিভিতে প্রচারের আগে তালেবানের অনুমতি নিতে হবে। তালেবানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা সিদ্ধান্তকে অনেকেই নারীর স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের দমনমূলক শাসনে ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এ মাসের শুরুতে তালেবান একটি ডিক্রি জারি করে জানায়, জনসমক্ষে নারীকে মুখ ঢেকে চলতে হবে। এ ছাড়া ৭২ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে গেলে কোনো নারীকে অবশ্যই পুরুষ অভিভাবক সঙ্গে রাখতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়ে শিশুদের পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আফগানিস্তানের প্রধান ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা একটি আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, আফগান নারীদের মুখসহ পুরো শরীর ঢেকে জনসমক্ষে বের হতে হবে। আর এ পোশাক হবে আফগানিস্তানের প্রথাগত বোরকার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।