নবজাতকের সমান ব্যাঙ

অতিকায় এই ব্যাঙ অবাক করে দিয়েছে গবেষকদেরও
ছবি: ফেসবুক

একটি ব্যাঙ কত বড় হতে পারে, ভাবুন তো একবার! গ্রামবাংলার এ উভচর প্রাণীর সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। ফলে ব্যাঙের আকার আকৃতি নিয়েও আমাদের কম বেশি ধারণা আছে। তাই বলে কোনো ব্যাঙের আকার সদ্যোজাত কোনো শিশুর মতো হবে! অবিশ্বাস্য হলেও তেমনই এক ব্যাঙের খোঁজ পাওয়া গেল ওশেনিয়া অঞ্চলের সলোমন দ্বীপপুঞ্জে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিশাল আকৃতির ব্যাঙটির ছবি প্রকাশ পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী হোনিয়ারার বাসিন্দা জিমি হুগো এ ব্যাঙের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, এক বালক বিশাল আকারের এক ব্যাঙ ধরে আছে। রীতিমতো নবজাতকের সমান ব্যাঙটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুগোর তোলা এ ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। অতিকায় ব্যাঙটি মানুষের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করে। সেই সঙ্গে দ্বীপাঞ্চলটিতে জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কনিফার গুপি প্রজাতির ব্যাঙ এটি। সাধারণত এ প্রজাতির ব্যাঙ আকারে বড় হয়ে থাকে। তবে হোনিয়ারার এ উভচর প্রাণীর আকার বিরল।

একটি স’ মিলের মালিক হুগো বলেন, তার মিলের শ্রমিকেরা বুনো শুয়োর শিকারের সময় ব্যাঙটি দেখতে পান। পরে ব্যাঙটির ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পোস্টের বিবরণে তিনি ব্যাঙটিকে ‘জঙ্গলি মুরগি’ বলে বর্ণনা করেন। পরে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রায় ৮০০ মানুষ ছবিটি শেয়ার করেন। আর হাজারো মানুষ মন্তব্য করেন। এক ব্যক্তি সেখানে মন্তব্য করেন, ‘এটি সলোমোন দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় জলজ ব্যাঙ, সম্ভবত গোটা মেলানেশিয়াতে এত বড় ব্যাঙ নেই।’

এবিসি নিউজকে হুগো বলেন, ‘শুরুতে আমি মনে করেছিলাম, কিছু মানুষ হয়তো ব্যাঙটির ছবি দেখবে। পরে দেখি বিপুলসংখ্যক মানুষ ছবির পোস্টে মন্তব্য করছেন। ব্যাঙটি নিয়ে এত মানুষের আগ্রহ আমাকে অবাক করেছে।’

সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও পাপুয়া নিউগিনিতে কনিফার গুপি ব্যাঙ ‘জঙ্গলি মুরগি’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা এ ব্যাঙ শিকার করে এবং এর মাংস বিক্রি করে। হুগো বলেন, ‘মুরগি থেকেও অধিক সুস্বাদু হয় এ ব্যাঙ।’

শুধু সাধারণ মানুষই না বিশেষজ্ঞরাও ব্যাঙটির আকার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের উভচর এবং সরীসৃপ সংরক্ষণ বিষয়ক জীববিজ্ঞান বিভাগেরকিউরেটর জডি রোওলে বলেন, ‘এত বড় ব্যাঙ আমি কখনো দেখিনি। কনিফার গুপি প্রজাতিতে সচরাচর এত বড় ব্যাঙ দেখা যায় না। দেখে মনে হচ্ছে এটির বয়সও কিছুটা বেশি।’