পালিয়ে ভাইয়ের কাছে ইংলাক!

ইংলাক সিনাওয়াত্রা
ইংলাক সিনাওয়াত্রা

থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা পালিয়ে দুবাইয়ে গেছেন। আজ শনিবার তাঁর দল পুয়ে থাই পার্টির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা বলেছেন। তবে দেশটির সেনাশাসকের ধারণা, তিনি যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন।

চালে ভর্তুকি কর্মসূচিতে অবহেলার মামলার রায় এড়াতে ইংলাক দেশ থেকে পালিয়ে যান। শুক্রবার এ মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। ইংলাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় রায়ের তারিখ পেছানো হয়েছে। আদালত তাঁর জামিন বাতিল করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ইংলাকের আইনজীবী অবশ্য আদালতকে বলেন, ইংলাক অসুস্থ। তাই তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আদালত তা মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রায়ের নতুন তারিখ ধার্য করেন। রায়ে ইংলাককে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইংলাক আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংলাক আদালতে হাজির না হয়ে সিনাওয়াত্রা পরিবারের ১৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান। সম্ভবত আদালতের রায়ের কয়েক দিন আগেই তিনি দেশ ছাড়েন।

সেনা-সমর্থিত সরকারের সূত্রগুলো বলছে, ব্যক্তিগত জেট বিমানে করে থাইল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর যান। সেখান থেকে তিনি দুবাই গেছেন। দুবাইয়ে তাঁর বড় ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা পালিয়ে আছেন।

ওই সূত্র আরও বলেছে, ইংলাকের গন্তব্য কিন্তু দুবাই নয়। তিনি যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবেন।

থাকসিন একসময় ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি কিনেছিলেন। লন্ডন শহরে তাঁর অনেক সম্পদও রয়েছে।

দীর্ঘ বিলম্বিত এই রায়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিভক্ত দেশটিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

২০১৪ সালের ২২ মে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এক বিতর্কিত আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ২০১১ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ইংলাক স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন।