সিঙ্গাপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশির ভাগই করোনামুক্ত থাকলেও অভিবাসীদের প্রায় অর্ধেক এতে আক্রান্ত
সিঙ্গাপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশির ভাগই করোনামুক্ত থাকলেও অভিবাসীদের প্রায় অর্ধেক এতে আক্রান্ত

প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানের তথ্য

সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত অভিবাসী শ্রমিক দেড় লাখ

সিঙ্গাপুরে গত ৯ মাসে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেকই করোনাভাইরাসে (কোভিড–১৯) আক্রান্ত হয়েছেন বলে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। তবে এতে বিস্মিত নন মানবাধিকারকর্মীরা। খবর বিবিসির।

প্রকাশিত নতুন তথ্য–উপাত্ত অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার, যা দেশটিতে বসবাসকারী মোট অভিবাসী শ্রমিকের ৪৭ শতাংশ। তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, একই সময় অর্থাৎ কোভিড মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লন্ডনের বাসিন্দাদের প্রায় ১১ শতাংশ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। আর অভিবাসী শ্রমিকদের বাদ দিলে সিঙ্গাপুরে ৪ হাজারের কিছু বেশি মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে মোট অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে তাঁদের প্রায় অর্ধেক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখনো প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর সেরোলজি টেস্টের ফলাফল জানা যায়নি। ওই ফলাফল জানা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়বে।

সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকাংশই বড় আবাসিক ভবনের এক–একটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করেন। যদিও থাকার মতো যথেষ্ট সুবিধার অভাব রয়েছে কক্ষগুলোতে। গত এপ্রিলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে কর্তৃপক্ষ অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে তাঁদের আলাদা (কোয়ারেন্টিন) করে রাখে।

কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা কড়াকড়িভাবে কার্যকর করায় গত কয়েক মাসে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিবাসী উভয়ের মধ্যে সংক্রমণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সাধারণ জনগণের জন্য বিধিনিষেধ হালকা করার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে বিদেশিকর্মীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরায় এখনো বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। এই কর্মীদের অধিকাংশ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। মূলত নির্মাণ ও বিভিন্ন উৎপাদনমূলক খাতে নিয়োজিত আছেন তাঁরা। আগামী বছর ধাপে ধাপে তাঁদের ওপর থেকে এই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হবে।

এই নতুন পরিসংখ্যানে আমি বিস্মিত নই। বছরের মাঝামাঝি যেসব কর্মীর পজিটিভ শনাক্ত হয়, তাঁদের নিজেদের কক্ষেই অবস্থান করতে বলেছিল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কক্ষের অন্য বাসিন্দারাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
অ্যালেক্স আউ, দাতব্য সংগঠন ট্রানজিয়েন্ট ওয়ার্কার্স কাউন্ট টু (টিডব্লিউসি২)–এর কর্মকর্তা

অভিবাসী কর্মীদের ব্যাপারে এমন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। যেমন: দাতব্য সংগঠন ‘ট্রানজিয়েন্ট ওয়ার্কার্স কাউন্ট টু (টিডব্লিউসি২)’–এর অ্যালেক্স আউ বিবিসিকে বলেন, সিঙ্গাপুরে অভিবাসী কর্মীদের সঙ্গে বন্দীর মতো আচরণ করার কোনো যুক্তি নেই। তাঁদের অনেককে ৮ মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

সংক্রমণের সংখ্যায় কেন হঠাৎ লাফ
করোনা পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি পদ্ধতির সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রথমটি হলো সাধারণ পিসিআর টেস্ট। এই পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত কি না, তা নির্ণয় করা হয়ে থাকে। অপরটি হলো সেরোলজি টেস্ট, যা দিয়ে কোনো ব্যক্তি আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না, সেটি জানা যায়।

পিসিআর টেস্টে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ অভিবাসী কর্মীর করোনা শনাক্ত হয়। অন্যদিকে সেরোলজি টেস্টে পজিটিভ শনাক্ত হন আরও ৯৮ হাজার অভিবাসী কর্মী। প্রথম সংখ্যা ইতিপূর্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলেও দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে গত সোমবার। সিঙ্গাপুরে মোট অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে তাঁদের প্রায় অর্ধেক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখনো প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর সেরোলজি টেস্টের ফলাফল জানা যায়নি। ওই ফলাফল জানা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে অ্যালেক্স আউ বলেন, ‘এই নতুন পরিসংখ্যানে আমি বিস্মিত নই। বছরের মাঝামাঝি যেসব কর্মীর পজিটিভ শনাক্ত হয়, তাঁদের নিজেদের কক্ষেই অবস্থান করতে বলেছিল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কক্ষের অন্য বাসিন্দারাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’