অন্য দুনিয়া

৯০ বছরেও জিতছেন শিরোপা

বডিবিল্ডার তোশিসুকে কানাজাওয়া
ইনস্টাগ্রাম

তরুণ বয়সে শরীরচর্চা করাটা স্বাভাবিক। মধ্যবয়সেও অনেককে নিয়মিত ব্যায়াম করতে দেখা যায়। তাই বলে ৯০ বছর বয়সে শরীরচর্চার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া রীতিমতো বিস্ময়কর। জাপানের তোশিসুকে কানাজাওয়া এ বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন। গত মাসে ৯০তম জন্মদিনের এক দিন আগে জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের বিভাগে সেরা হয়েছেন তিনি। এটি তাঁর ১৯তম জাতীয় শিরোপা।

হিরোশিমায় নিজের জিমে বসে কানাজাওয়া বলেন, এটাই তাঁর শেষ শিরোপা নয়। শরীর ঠিক রাখতে তিনি এখনো সপ্তাহে ছয় দিন গড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা করে ব্যায়াম করেন।

তবে বয়স বাড়ায় ব্যায়ামের ধরন বদলেছেন কানাজাওয়া। এখন তিনি ভারী ওজন তোলার বদলে বিভিন্ন মেশিন ব্যবহার করেন।

কানাজাওয়ার শরীরচর্চার শুরু অনেক আগে। ১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া কানাজাওয়া স্কুলজীবনে ভালো সাঁতারু ছিলেন। ১ হাজার ৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে তিনি দক্ষ ছিলেন। কিন্তু পেশির সমস্যার কারণে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপর তিনি বডিবিল্ডার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কানাজাওয়া ২৪ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো মিস্টার জাপান হন। তিন বছর পর আবারও এই শিরোপা জেতেন। ১৯৬৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেতা ও সাবেক বডিবিল্ডার আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার। কানাজাওয়া হয়েছিলেন চতুর্থ। ৮০ বছর বয়স পার করার পরও তিনি ছয়বার ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন।

দীর্ঘ সুস্থ জীবনের জন্য নিয়ম মেনে চলাকেই মূল কারণ বলে মনে করেন কানাজাওয়া। তিনি কখনো ধূমপান ও মদপান করেননি। মাছ ও মাংস খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন অনেক বছর আগে। বাদামি চাল, গাঁজানো সয়াবিনের খাবার নাট্টো ও মিসো স্যুপই তাঁর মূল খাবার। স্যুপে কয়েকটি কাঁচা ডিম গুলিয়ে নেন। বয়স বাড়ায় এখন দিনে তিনটি প্রোটিন শেক খান। আগে খেতেন ছয়টি।

ছোটবেলা থেকে শরীরচর্চা করলেও একটা সময় বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে ৫০ বছর বয়সে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরেন কানাজাওয়া। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। স্ত্রীকে উৎসাহ দিতেই তিনি আবার শরীরচর্চা শুরু করেছিলেন।

কানাজাওয়া বলেন, বয়স বাড়লেই সবকিছু ছেড়ে দিতে হবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বডিবিল্ডার থাকাই তাঁর ইচ্ছা।