জিমি লাই
জিমি লাই

হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া মোগল জিমি লাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড

হংকংয়ের একটি আদালত গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও উসকানিমূলক প্রকাশনা-সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার হংকং হাইকোর্টের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। ৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। পত্রিকাটির প্রকাশনা এখন বন্ধ রয়েছে।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী আছেন লাই। এর আগে একাধিক মামলায় তাঁকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপ করা আছে। ওই আইনের আওতায় বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের দুটি অভিযোগে ও উসকানিমূলক প্রকাশনার একটি অভিযোগে গত ডিসেম্বরে জিমি লাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সে সময় পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জিমি লাইকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ মামলাটিকে ‘প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়’ বলেও নিন্দা করেছে।

জিমি লাইয়ের পরিবার, তাঁর আইনজীবী, সমর্থক এবং সাবেক সহকর্মীরা বলেছেন, তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ আছে। তাঁদের আশঙ্কা, কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।

জিমি লাইয়ের পাশাপাশি অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার ছয় সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মী, একজন অধিকারকর্মী এবং একজন আইন সহকারীকে আজ সোমবার সাজা দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, গত মাসে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলেছিলেন। স্টারমার বলেছিলেন, তাঁদের আলোচনাটি ‘সম্মানজনক’ ছিল। জিমি লাই যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হংকংয়ের এই মিডিয়া মোগলকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।