নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভবন
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভবন

আইসিসি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের সতর্ক কূটনীতি

এক সময়ের শত্রুদেশ যুক্তরাষ্ট্র যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বাস্তবতায় জাপানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে চীনের ব্যাপক অর্থনৈতিক এবং সামরিক উত্থানের মধ্যে জাপানের মুক্ত ও অবাধ ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বড় সহযোগী।

তবে সব ক্ষেত্রেই যে দুই দেশের ধারণা বা স্বার্থ এক, তেমন নয়। যেমন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ক্ষেত্রে জাপান সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আবার ওকিনাওয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকেন্দ্রিক নানা বিষয়; বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের খুন-ধর্ষণ-ডাকাতিসহ স্থানীয় নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের মধ্য থেকে টানাপড়েনের সৃষ্টি করেছে।

তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা জাপানকে জটিল এক কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে টোকিও আদালতের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তানির্ভর মিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করছে। ফলে আইসিসি প্রশ্নটি এখন শুধু আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিতর্ক নয়; জাপানের পররাষ্ট্রনীতির ওপরও বড় চাপ।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পরপরই ৯ অক্টোবর আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় আদালতের সম্পদ জব্দ, মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনে বাধা এবং আদালতের কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে ১৮০ দিনের ছাড় রাখা হয়েছে। এই সময়সীমা ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ওয়াশিংটনের আপত্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনের আপত্তি

ওয়াশিংটনের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে আদালতের এখতিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে আইসিসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সামরিক কর্মকর্তা বা অন্য সরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচারিক পদক্ষেপ নিতে পারে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত এবং ২০২৪ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই বিরোধিতা আরও তীব্র হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও আইসিসি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ব্যবস্থার ফলে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে, মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় লেনদেন নিষিদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও বাধা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

রাশিয়াও অসন্তুষ্ট

আইসিসির ওপর চাপ শুধু ওয়াশিংটন থেকে আসছে না, এতে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের আরেক পরাশক্তিও। ২০২৩ সালে আইসিসি ইউক্রেন থেকে শিশুদের অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ক্ষিপ্ত হয় দেশটি। মস্কো এরপর আইসিসির কৌঁসুলি ও বিচারকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করে। ২০২৫ সালে মস্কোর একটি আদালত আইসিসির কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারককে তাঁদের অনুপস্থিতিতে দণ্ড দেন। এই তালিকায় তোমোকো আকানেও ছিলেন। এদিকে চলতি মাসে রাশিয়া নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশের কাছে এই আইসিসি কর্মকর্তাদের আটক ও প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ চাপে তাই বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক এই আদালত।

জাপান-আইসিসি সম্পর্ক

জাপানের সঙ্গে আইসিসির সম্পর্ক প্রায় দুই দশকের। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে টোকিও রোম সংবিধিতে যোগ দেয় এবং একই বছরের ১ অক্টোবর তা জাপানের জন্য কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইনের শাসন বজায় রাখার ব্রত নিয়েই আইসিসির সদস্য হয় জাপান। এরপর থেকেই আইসিসিকে নিয়মিত বড় পরিমাণে আর্থিক এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে জাপান।

আইসিসির বর্তমান প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জাপানের নাগরিক। দীর্ঘ অভিজ্ঞ এই আইনবিদ ছিলেন জাপানের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি। ২০১৭ সালে তিনি আইসিসির বিচারক নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আদালতের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।

জাপানের সংবেদনশীল অবস্থান

আকানে জাপানের নাগরিক হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন ধরে আদালতকে সমর্থন করে যাওয়ার কারণে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পদক্ষেপ জাপানের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার দিনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু এক বার্তায় বলেন, জাপান আইনের শাসন রক্ষায় আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর ভূমিকাকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ টোকিওর ধারাবাহিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে জাপান আইসিসি–সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, আকানে ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনপ্রণেতাদের তাকাইচি বলেন, জাপান ধারাবাহিকভাবে আইসিসিকে সমর্থন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।

প্রকৃতপক্ষে জাপানের ভেতরেও এই অবস্থানের ভিত্তি আছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের অনেক আইনপ্রণেতাই আন্তর্জাতিক অপরাধে দায়মুক্তি ঠেকাতে আইসিসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। নাগরিক সমাজ ও আইনজীবী মহলেও আদালতের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। তার ওপর আকানের নেতৃত্ব বিষয়টিকে দেশীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের সঙ্গেও যুক্ত করেছে।

জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

মিত্রতার হিসাব ও কূটনৈতিক যোগাযোগ

আদালতকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে গেলেও টোকিও অবশ্য ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। চীন, উত্তর কোরিয়া, তাইওয়ান প্রণালি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র জাপানের প্রধান মিত্র। তাই জাপানের কৌশল হলো আইসিসির পক্ষে অবস্থান ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা। গত (সেপ্টেম্বর) মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তাকাইচি আইসিসি ইস্যুটি তুলেছিলেন বলে জানান। যদিও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞার পথই বেছে নেয়।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ১০ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এ বিষয়ে ফোনে কথা বলেন। তিনি আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং আইসিসির প্রতি জাপানের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করেন। দুই পক্ষ এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়। একই দিনে মোতেগি আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানের সঙ্গেও কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া নিয়েই তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে জাপান অবশ্য একা নয়। ১০ অক্টোবর কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টোকিও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আদালতের কাজ, কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। দেশগুলো আইসিসির স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সততা রক্ষার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে।

আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ‘ব্যুরো অব অ্যাসেম্বলি’ও ১০ অক্টোবর এক বিবৃতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। ১২৫ সদস্যরাষ্ট্রের এই অ্যাসেম্বলি আইসিসির ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান ও আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। এর মধ্যে ২১ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই ব্যুরোর ভাষ্য—জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার নজিরবিহীন ব্যবহার আদালত ও এর কর্মকর্তাদের স্বাধীন বিচারিক কাজ ব্যাহত করার দুঃখজনক প্রচেষ্টা। ব্যুরো আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আদালত ও তার কর্মীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। আদালত কর্মী ব্যবস্থাপনা, অর্থ, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তি ও সেবার ওপর নির্ভরশীল। এসব সেবা সীমিত হলে তদন্ত, বিচার, নথি ব্যবস্থাপনা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে আইসিসি ও সদস্যরাষ্ট্রগুলো বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট জাপানের তোমোকো আকানে

টোকিওর চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথ

আইসিসির সমর্থকদের মতে, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আইসিসির মতো আদালতের উপস্থিতি অপরিহার্য। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুই দেশই রোম সংবিধির বাইরে থেকে আদালতের এখতিয়ার প্রশ্নে আপত্তি জানাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যদিও তাদের পদ্ধতি ভিন্ন—ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করছে আর মস্কো ফৌজদারি মামলা, দণ্ড ও প্রত্যর্পণ চেষ্টার পথ বেছে নিয়েছে। এই দ্বিমুখী চাপই বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করেছে।

টোকিওর সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো কীভাবে আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। প্রকাশ্যে বেশি কঠোর হলে নিরাপত্তা সম্পর্ক অস্বস্তিতে পড়তে পারে। আবার নীরব থাকলে আইসিসির প্রতি জাপানের প্রতিশ্রুতি দুর্বল বলে বিবেচিত হতে পারে। তাই ১৮০ দিনের সময়সীমাকে জাপান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

আগামী মাসগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসতে পারে। আপাতত জাপানের লক্ষ্য সংঘাত কমানো, আইসিসির কার্যক্রম সচল রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও বৃহৎ শক্তির রাজনীতির এই টানাপোড়েনের মধে৵ই জাপান নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজের অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক উত্তরণ ঘটাতে পারে কি না।