মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়া যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলাটা যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক হবে। গতকাল ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।

আজ শুক্রবার চীন সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থনৈতিক সুফলের কথা তুলে ধরেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। তিনি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা, শুল্ক কমানো ও বিনিয়োগ চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার আহ্বান জানান। আলোচনায় ফুটবল ও শেস্‌সপিয়ারের কথাও উঠে আসে।

গতকাল ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। চীন ও যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওদের জন্য এটা করাটা খুবই বিপজ্জনক হবে।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। আগামী এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের কথা রয়েছে।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি বেইজিং সফরে অর্থনৈতিক চুক্তি করার পর তিনি এ হুমকি দেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের মন্তব্যের কাছাকাছি সময়ে স্টারমার চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইউকে-চায়না বিজনেস ফোরামের বৈঠকে বলেছেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর ‘খুবই উষ্ণ’ বৈঠক হয়েছে এবং এতে ‘বাস্তব অগ্রগতি’ এসেছে।

স্টারমার ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও হুইস্কির ওপর থেকে শুল্ক কমানোর চুক্তিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এভাবেই আমরা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানের বোধ তৈরি করি, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাধারণত ট্রাম্পের সমালোচনা এড়িয়ে চলা স্টারমারকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তিনি ট্রাম্পকে গত সপ্তাহের একটি মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, কিছু ন্যাটো সেনা সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে গেছে।

এ ছাড়া স্টারমার বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি মানবেন না।