
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিধ্বসংসী বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছে শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ বন্যার তিন দিন পর তাঁদের জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন নেপালের সেনাসদস্যরা। আজ শনিবার তাঁরা খনন যন্ত্র দিয়ে সুড়ঙ্গে খননকাজ শুরু করেছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রসুয়া জেলার ‘ত্রিশূলী ৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সরকার অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ সকাল থেকে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পরিষ্কারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে নদীগুলোয় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে সেখানকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ কর্মী নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া এই শ্রমিকেরাও আছেন।
এনডিআরআরএমএ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ৩৫০ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনো ভেতরে শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছিল, কেবল একটি জায়গাতেই শতাধিক ব্যক্তি আটকা পড়ে আছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও একইভাবে উদ্ধারকাজ চলছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আজ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকাজে দক্ষ পাঁচজনকে তিব্বত অঞ্চল থেকে নেপালে পাঠিয়েছে।
একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে উদ্ধারকাজ চালাতে নেপাল সরকার সহায়তা চেয়েছিল। সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে হেলিকপ্টারে করে বিশেষজ্ঞ দলটিকে পাঠানো হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও চলছে উদ্ধারকাজ
নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ‘ত্রিশূলী ৩বি’ প্রকল্প এলাকায় পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চলছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা কাদা মাড়িয়ে সামনে এগোচ্ছেন। বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা বড় বড় পাথর সরিয়ে পথ তৈরি করছেন তাঁরা।
কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। তিনি জানান, ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া চীনের আরেকটি দলও খুব দ্রুত এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিমালয় অঞ্চলের জটিল সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতের। বিশেষ করে দলটিতে প্রশিক্ষিত ‘র্যাট-হোল’ খনিশ্রমিকেরা রয়েছেন, যাঁরা খুব সরু জায়গার ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকতে পারেন।
সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল। বিশেষ করে আটকে পড়া মানুষদের অবস্থান শনাক্ত করার উন্নত প্রযুক্তি এবং ভারী জিনিস উদ্ধারে সক্ষম ড্রোন চেয়েছে নেপাল।
আজ এক বিবৃতিতে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের বাইরের অংশটি শনাক্ত করতে খনন যন্ত্রসহ বিভিন্ন বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণেই এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। এর ফলে পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তীব্র বেগে নেমে আসে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।