ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার

তবে কি ইরানকে ভয় দেখাতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন দেশটির ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে, তাদের এই তৎপরতা সেটারই একটি বড় সংকেত হতে পারে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে যেতে চান। সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ এই ঘোষণার বেশ আগে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বর্তমানে আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র যেসব সামরিক সরঞ্জাম ওই এলাকায় পাঠিয়েছে, এটি তার মধ্যে একটি।

তাহলে ট্রাম্পে কি ইরান সরকারকে ভয় দেখাতেই ইরান উপকূলে বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন? ট্রাম্প যা–ই করুন, সংঘাত না হলেই এই অঞ্চলের জন্য মঙ্গল। কারণ, ইসরায়েলের নির্বিচার গাজা হামলা এমনিতেই এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

যাই হোক, গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের সামরিক শক্তি এই অঞ্চলে মোতায়েন করেছিল। তখন ওয়াশিংটন তাদের মিত্র ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছিল।

এরপর গত বছরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পরই তারা ভেনেজুয়েলার নৌযানের ওপর হামলা চালাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, সেগুলো মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবশ্য এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেয়নি।

শেষ পর্যন্ত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে রাজধানী কারাকাসের সেফ হোম থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে বড় ধরনের গণবিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে সাধারণ মানুষ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে বিক্ষোভে নামলেও পরে তা সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়।

অভিযোগ ওঠেছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক দমন–পীড়ন চালিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত জানিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সুযোগে ইরানের ধর্মীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’। তিনি হুমকি দেন, ইরান যদি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে তিনি সামরিক ব্যবস্থা নেবেন।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প তাঁর হুমকি কিছুটা কমিয়ে আনেন যখন ইরান সরকার তাঁকে আশ্বাস দেয়, কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। গত সপ্তাহে যখন বিক্ষোভ পুরোপুরি দমে আসে, তখন ট্রাম্প দাবি করেন তাঁর চাপের কারণেই মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হয়েছে, তবে ইরান তাঁর এই দাবি অস্বীকার করেছে।

তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের কঠোর কথাবার্তা এবং ইরানের উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই অস্বাভাবিক অবস্থান দেখে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যেকোনো সময় হামলা শুরু হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই সামরিক সরঞ্জামগুলো ‘সতর্কতা হিসেবে’ নেওয়া হয়েছে। দরকার পড়লে ব্যবহারের জন্য সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বিশাল একটি নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে। হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না।’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলা চালাবে, যা গত জুনের হামলাকেও তুচ্ছ প্রমাণ করবে।

আমেরিকা কোন কোন সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে, সে সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কোন কোন মার্কিন সামরিক সম্পদ পৌঁছেছে

গত সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে নিশ্চিত করেছে, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতে পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে গত নভেম্বরে রওনা দেওয়া এই জাহাজ গত সপ্তাহ পর্যন্ত দক্ষিণ চীন সাগরে ছিল। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ।

সেন্ট্রাল কমান্ড এই নৌবহর মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি, তবে এটি স্পষ্ট, ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চরম উত্তেজনার সময়েই এই বড় নৌবহর পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

গত মঙ্গলবার মার্কিন বিমানবাহিনীও (অ্যাফসেন্ট) তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে (মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার প্রায় ২০টি দেশ যেখানে মার্কিন ঘাঁটি আছে) কয়েক দিনব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিবৃতিতে বিমানবাহিনী জানায়, এই মহড়া তাদের দ্রুত সরঞ্জাম ও কর্মী মোতায়েনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেন, ‘এটি মূলত আমাদের বিমানসেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখার একটি প্রক্রিয়া, যাতে যখনই প্রয়োজন হয়, তখনই আকাশপথে শক্তি প্রদর্শন করা যায়। তবে এই মহড়ার নির্দিষ্ট স্থান বা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।’

২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েই চলেছে। মূলত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দমন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। গাজার ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছিলেন হুতি যোদ্ধারা।

২০২৫ সালের জুন নাগাদ এই অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল বলে জানা যায়। বাহরাইন, মিসর, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এ ছাড়া ওমান ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক স্থাপনা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ জুন ইরান কাতারের আল-উদাইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালানোর কারণে তারা এই হামলা চালিয়েছিল। সে হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। কারণ, আগেভাগেই সেখান থেকে মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ইরানের ওই হামলাকে মূলত নিজেদের মান বাঁচানোর একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের ক্ষমতা কী

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন একটি ভাসমান বিমানঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। এতে ছয় থেকে সাত হাজার সেনা ও নাবিক থাকেন। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ৩’-এর প্রধান জাহাজ।

৩৩৩ মিটার লম্বা এই জাহাজ বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি। এটি পারমাণবিক শক্তিতে চলে, যার ফলে এটি ডিজেল ছাড়াই দশকের পর দশক চলতে পারে।

বিশাল আকার হওয়া সত্ত্বেও এটি বেশ দ্রুতগতিতে (ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটারের বেশি) চলতে পারে, যার ফলে এটি দ্রুত আক্রমণ এড়াতে সক্ষম হয়।

এই জাহাজের সঙ্গে অন্তত তিনটি ছোট ও দ্রুতগতির ডেস্ট্রয়ার জাহাজ রয়েছে, যেগুলো এই বড় জাহাজকে পাহারা দেয়। এসব জাহাজ ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং এগুলো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে ও শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম।

এই ডেস্ট্রয়ার জাহাজগুলো হলো

-ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র: এতে অত্যন্ত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

-ইউএসএস স্প্রুয়েন্স: এটি শক্তিশালী রাডার এবং সেন্সর সিস্টেমের জন্য পরিচিত। এটি সাবমেরিনবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

-ইউএসএস মাইকেল মারফি: এটি আগের জাহাজটিরই একটি নতুন মডেল।

এই নৌবহরে সাধারণত একটি ক্রুজার জাহাজ, একটি অ্যাটাক সাবমেরিন এবং একটি মালামাল সরবরাহকারী জাহাজও থাকে।

এই রণতরির সঙ্গে থাকা বিমানবাহিনীতে প্রায় ৬৫টি যুদ্ধবিমান থাকে। এর মধ্যে ‘এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট’ প্রধান, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে পারে।

২০২৫ সালের জুনের হামলায় কী ঘটেছিল

২০২৫ সালের ২২ জুন রাতে চার হাজার মার্কিন সেনা ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে (ফর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান) হামলা চালান।

ওই হামলায় ইরানের ওই কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তারা সফলভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নষ্ট করতে পেরেছে।

ফর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রটি পাহাড়ের অনেক গভীরে অবস্থিত। সেটি ধ্বংস করতে ১২টি ‘বাংকার–বাস্টার’ বা বাংকারবিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা মাটির ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত গিয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে। এগুলো বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ফেলা হয়েছিল।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রেও এই বাংকারবিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ইসফাহান গবেষণাকেন্দ্রে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে ২৪টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন জানিয়েছিলেন, সে সময় এফ-৩৫ এবং এফ-২২ যুদ্ধবিমানও ইরানের আকাশে ঢুকেছিল। মোট ১২৫টি বিমান সেই অভিযানে অংশ নিয়েছিল এবং ইরান পাল্টা হামলা করার আগেই তারা ফিরে এসেছিল।

এটি ছিল ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। এর আগে ২০২০ সালে কাশেম সোলাইমানিকে ইরাকের মাটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই মার্কিন সেনাদের অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। যেমন মূলত ইরানকে বিভ্রান্ত করার জন্য ২০ জুন তারা কিছু বোমারু বিমান গুয়াম ঘাঁটিতে পাঠিয়েছিল।

হামলার আগে ইউএসএস কার্ল ভিনসন ও ইউএসএস নিমিটজ নামের দুটি রণতরিও আরব সাগরে অবস্থান নিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও হামলার জন্য প্রস্তুত

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরানে আবারও হামলা হতে পারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের এলি গেরানমায়েহ মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো বলবেন তিনি সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এই হামলা চালিয়েছেন। তবে এই হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি। ইরান যদি মনে করে তাদের অস্তিত্ব সংকটে, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা করতে পারে। এটি ট্রাম্পের জন্য নির্বাচনের বছরে বড় বিপদ হতে পারে।

ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে তেলের খনিগুলোতে হামলা করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিতে পারে। এ ছাড়া তারা ইসরায়েলের ওপরও হামলা চালাতে পারে।

গেরানমায়েহ আরও বলেন, গত জুনে হামলার পর ইরান বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায়নি। কিন্তু এবার তারা তেমনটা করবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ মনে করেন, এখনই হামলা না–ও হতে পারে। কারণ, ইতিমধ্যে বিক্ষোভ ইরান সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এ ছাড়া এ ধরনের হামলা অনেক ব্যয়বহুল। এর উদ্দেশ্যও পরিষ্কার নয়।

ভায়েজ সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সামরিক সংঘাতের চূড়ান্ত ফল ভোগ করতে হবে ইরানের ৯ কোটি সাধারণ মানুষকে। এতে দেশটির সরকার টিকে থাকলেও তারা জনগণের ওপর আরও কঠোর হবে এবং এই অঞ্চলে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে।