এক চীনা কিশোর নিজের বাড়িতে বসে একটি টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরি করে হইচই ফেলে দিয়েছে। ওই চীনা কিশোরের নাম চে জিংআং, বয়স ১৪ বছর।
চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে খবর প্রকাশ পেয়েছে। সেসব খবরে তাকে একজন ‘সেলফ মেড ইঞ্জিনিয়ার’ বলা হয়েছে।
চে-র একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট আছে, যার অনুসারী সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। চে-র মা তার ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। সেখানে চে বলেন, ‘উড়ন্ত সবকিছু নিয়েই’ তার অসীম আগ্রহ। এই আগ্রহ থেকেই মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সে ক্যালকুলাস ও অ্যারোডাইনামিকস নিয়ে নিজে নিজে পড়াশোনা শুরু করে।
এভাবে নিজে শিখতে শিখতে চে বাড়িতে নিজের হাতে টার্বো ইঞ্জিন তৈরি শুরু করে এবং প্রতিটি ধাপের ভিডিও করে।
সে যেসব ভিডিও তার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে, সেখানে সে তার ইঞ্জিন তৈরি ও পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া দেখিয়েছে। ইঞ্জিন পরীক্ষার সময় যে শব্দ হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছে। হ্যাশট্যাগে সে নিজেকে ‘রকেট বয়’ বলে পরিচয় দেয়।
কিন্তু চে-র বাড়িতে টার্বোজেট ইঞ্জিন তৈরির দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তার গল্প এবং তার পটভূমির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিছু মানুষ লক্ষ করেন, চে-র অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একটি গণিত সমস্যার সমাধান-সংক্রান্ত ভিডিও সেভ করে রাখা। এটা দেখে কেউ কেউ তার ‘ক্যালকুলাস’ জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কেউ কেউ এটাও দাবি করেন, চে-র বাবা মহাকাশ প্রকৌশলী চে ঝুমিং। তিনি শিচাং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পে কাজ করেছেন। তবে কেউ নিশ্চিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মা-বাবার কারণে চে অল্প বয়সে এসব কৃতিত্ব গড়ার সুযোগ পেয়েছে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।
কিছু মানুষ তাকে জিয়াং পিংয়ের সঙ্গেও তুলনা করেন। ১৭ বছর বয়সী এই কিশোর ২০২৪ সালে প্রতারণার অভিযোগে ধরা পড়ার আগে একটি আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ‘প্রডিজি’ হিসেবে ভাইরাল হয়েছিল।
চে-র বেলায়ও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, চে কে আসলে তার মা-বাবা ‘অসাধারণ প্রতিভাধর’ হিসেবে দেখাতে চাইছে, যেন সে ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।