চীনের একটি সড়কে দায়িত্বরত রোবট ট্রাফিক পুলিশ
চীনের একটি সড়কে দায়িত্বরত রোবট ট্রাফিক পুলিশ

বিচিত্র

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে রোবট

রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে দ্রুত এগিয়ে চলছে চীন। সম্প্রতি দেশটির পূর্বাঞ্চলের জেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌয়ের হুবিন বাণিজ্যিক এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় মানবসদৃশ রোবটকে সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়।

চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, হাংঝৌ শহরের দর্শনীয় এলাকা ওয়েস্ট লেক, হুবিন বাণিজ্যিক এলাকা এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ১৫টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। রোবটগুলো পর্যটকদের পথ দেখানো, মোটরচালিত নয় এমন যানবাহন ও পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করা থেকে বিরত রাখা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ করছে।

চীনে এটাই রোবট ট্রাফিক পুলিশের প্রথম দল, যেগুলোকে সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে। সেগুলো একজন সত্যিকারের ট্রাফিক পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করছে।

রোবটগুলো একটি ছোট্ট গাড়ির মতো দেখতে চারকোনা বাক্সের ওপর দাঁড়ানো, সেটির নিচে চাকা রয়েছে। ফলে রোবটগুলো সহজেই সব দিকে যেতে পারে। রোবটের ইউনিফর্মের রংও অত্যন্ত দৃশ্যমান, একনজরেই চোখে পড়ে।

সেগুলো মানুষ ট্রাফিক পুলিশের নিখুঁত অনুকরণে অঙ্গভঙ্গি করে, ফলে গাড়িচালকেরা সহজেই নির্দেশনা বুঝতে পারেন। রোবটগুলো হাত তোলা, থামার সংকেত, এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশসহ সবই এমন নিখুঁতভাবে করে, যা সবচেয়ে নিবেদিত মানব ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষেও টানা আট ঘণ্টা ধরে করে যাওয়া কঠিন।

সড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করার পর রোবটগুলো দ্রুতই দর্শনার্থীদের মনযোগ আকর্ষণ করেছে। অনেকেই থেমে রোবটের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও তুলতে শুরু করেছেন। এটা কিছুটা বিদ্রূপাত্মকও বটে। কারণ, রোবটের কাজ হলো যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, কিন্তু উল্টো এটিকে ঘিরে বিস্মিত দর্শকদের ছোট ছোট ভিড় তৈরি হচ্ছে।

তবে হাংঝৌর মানব ট্রাফিক পুলিশরা নিজেদের এই নতুন সহকর্মীদের বেশ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আর সত্যি বলতে, রোদ-বৃষ্টি, দূষণ আর হর্নের শব্দের মধ্যেও ক্লান্ত না হয়ে সব সময় ‘হাসিমুখে’ দাঁড়িয়ে থাকতে পারার মতো একজন সহকারীকে কেই-বা না চাইবে?