‘জেনোসাইড’ (গোষ্ঠীনিধন বা গণহত্যা) অস্বীকার কেবল কোনো ঐতিহাসিক অপরাধের সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া বা নিছক ভুলে যাওয়ার বিষয় নয়। অস্বীকারকে মূলত সেই অপরাধেরই একটি চূড়ান্ত, সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী পর্যায় হিসেবেই ভাবা হয়। যখন কোনো পরাক্রমশালী রাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পদ্ধতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার পর সেই অপরাধের দায়ভার অস্বীকার করে, তখন সেটি ভুক্তভোগীদের স্মৃতি ও অস্তিত্বকে দ্বিতীয়বার হত্যার শামিল হয়ে ওঠে। এই অস্বীকৃতির রাজনীতি শারীরিক সহিংসতাকে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক নিগ্রহে রূপান্তরিত করে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই রাজনীতির ধরন আরও জটিল, সূক্ষ্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। আধুনিক রাষ্ট্র এখন আর কেবল সরাসরি মিথ্যা বলে না। বরং তথ্য গোপন করা, পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা এবং কাঠামোগত অপরাধকে ‘সভ্যতার বিস্তার’ বা ‘অনিবার্য ঐতিহাসিক নিয়তি’ হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল নেয়। এই অস্বীকৃতির মূল লক্ষ্য হলো অপরাধীদের পরিচয় আড়াল করে তাদের কাঠামোগত ও আইনি দায়মুক্তি দেওয়া। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র তার নিজ ভূখণ্ডে আদিবাসীদের ওপর চালানো কয়েক শতাব্দীর পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞকে কীভাবে অস্বীকার করে আসছে, তা এই কাঠামোগত অবিচারের এক ধ্রুপদি উদাহরণ। ‘গণহত্যা অস্বীকারের বৈশ্বিক রাজনীতি’ শীর্ষক এই সিরিজের প্রথম পর্ব তাই এ বিষয় নিয়েই।
উত্তর আমেরিকায় আদিবাসীদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের সময়সীমা কোনো নির্দিষ্ট এক বা দুই বছরের বিষয় ছিল না। এটি ছিল পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রলম্বিত এক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই নির্মূল অভিযান সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
ইউরোপীয়দের আগমনের সময় উত্তর আমেরিকায় হাজার হাজার স্বাধীন ও বৈচিত্র্যময় আদিবাসী গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। অথচ ১৮৯০-এর দশকে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ২ লাখ ৩৭ হাজারে নেমে আসে। অর্থাৎ কয়েক শতাব্দীর ব্যবধানে প্রায় ৯৫ শতাংশ আদিবাসী নিশ্চিহ্ন হয়েছিল।
আমেরিকার ইতিহাসে আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞকে মার্কিন রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে গোষ্ঠীনিধন বা জেনোসাইড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা আড়াল করার প্রধান ব্যাখ্যা হলো ‘ভার্জিন সয়েল থিওরি’ বা কুমারী ভূমিতত্ত্ব। এ তত্ত্বে দাবি করা হয়, ইউরোপীয়দের আগমনের পর তাদের সঙ্গে আসা সংক্রামক ব্যাধিতেই আদিবাসীদের বিশাল অংশ মারা গেছে এবং এতে বিশেষ কারও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু নতুন জনমিতিক গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। রাসেল থর্নটন তাঁর বিখ্যাত গবেষণা ‘আমেরিকান ইন্ডিয়ান হলোকাস্ট অ্যান্ড সারভাইভাল’-এ বিস্তারিত পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন, কেবল রোগব্যাধি নয়, বরং এর সঙ্গে পদ্ধতিগত যুদ্ধ, জমি থেকে উচ্ছেদ এবং খাদ্যাভাব সৃষ্টির মতো নীতিগুলো একত্রে কাজ করেছে। থর্নটনের গবেষণা প্রমাণ করে, আদিবাসীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে কম ছিল না; বরং তাদের প্রধান খাদ্য উৎস ‘বাইসন’ বা মহিষকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সুপরিকল্পিতভাবে নিধন করার কারণেই তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ মহামারিগুলো নিছক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, বরং তা ছিল ঔপনিবেশিক আগ্রাসনেরই একটি অস্ত্র।
প্রাথমিক রোগব্যাধি ও আগ্রাসনের ধাক্কাটা স্প্যানিশ, ফরাসি বা ব্রিটিশরা দিলেও আদিবাসীদের ওপর সবচেয়ে সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী জেনোসাইড পরিচালনা করেছিল এই ইউরোপীয়দেরই উত্তরসূরিরা—শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান বসতি স্থাপনকারী এবং স্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণের (ওয়েস্টওয়ার্ড এক্সপ্যানশন) নামে তারাই পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে আদিবাসীদের সমূল নিশ্চিহ্ন করার চূড়ান্ত পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল।
আইনি এবং ঐতিহাসিক গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে এই গোষ্ঠীনিধনের স্বরূপ উন্মোচনে সবচেয়ে যুগান্তকারী কাজ করেছেন ইতিহাসবিদ বেঞ্জামিন ম্যাডলি। তাঁর সাড়াজাগানো গবেষণা ‘অ্যান আমেরিকান জেনোসাইড: দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অ্যান্ড দ্য ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিয়ান ক্যাটাস্ট্রোফি, ১৮৪৬-১৮৭৩’-এ বাজেট, সামরিক নথিপত্র এবং আইনসভার কার্যবিবরণী বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় আদিবাসীদের হত্যা কোনো খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের প্রত্যক্ষ অর্থায়নে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত আইনি ও সামরিক প্রকল্প। ম্যাডলির গবেষণা দেখায়, কীভাবে রাষ্ট্র মিলিশিয়াদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে আদিবাসীদের হত্যার মিশনে পাঠাত এবং সেই ব্যয়ভার মেটাতে সরকারি বন্ড ইস্যু করত।
আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞকে মার্কিন রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে গোষ্ঠীনিধন বা জেনোসাইড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা আড়াল করার প্রধান ব্যাখ্যা হলো ‘ভার্জিন সয়েল থিওরি’ বা কুমারী ভূমিতত্ত্ব। এ তত্ত্বে দাবি করা হয়, ইউরোপীয়দের আগমনের পর তাদের সঙ্গে আসা সংক্রামক ব্যাধিতেই আদিবাসীদের বিশাল অংশ মারা গেছে এবং এতে বিশেষ কারও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু নতুন জনমিতিক গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে।
অস্বীকারের রাজনীতির আরেকটি বড় দিক হলো এই ঘটনাগুলোকে কেবল অতীতের কিছু ‘দুর্ভাগ্যজনক নীতি’ হিসেবে দেখানো। কিন্তু ইতিহাসবিদ রোক্সান ডানবার-অরটিজ তাঁর প্রখ্যাত গবেষণাগ্রন্থ ‘অ্যান ইনডিজেনাস পিপলস হিস্ট্রি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-এ এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি আইনি ও ঐতিহাসিক দলিল ঘেঁটে দেখিয়েছেন, আদিবাসী নির্মূল কোনো ভুল বা বিচ্যুত নীতি ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ‘সেটলার কলোনিয়াল’ (বসতি স্থাপনকারী ঔপনিবেশিক) রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই দাঁড়িয়ে আছে আদিবাসীদের ভূমি দখল এবং তাদের অস্তিত্ব বিলোপের ওপর। তাঁর গবেষণা প্রমাণ করে, জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে অ্যান্ড্রু জ্যাকসন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মার্কিন প্রশাসনের মূল আইনি ও সামরিক লক্ষ্যই ছিল আদিবাসী পরিচিতি মুছে ফেলা। যেমন ১৮৩০ সালের ‘ইন্ডিয়ান রিমুভাল অ্যাক্ট’ বা আদিবাসী উচ্ছেদ আইনের মাধ্যমে আদিবাসীদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে উচ্ছেদ করে হাজার মাইল দূরের পশ্চিমের ‘ইন্ডিয়ান টেরিটরি’ বা বর্তমান ওকলাহোমায় নির্বাসিত করা হয়েছিল। ইতিহাসে এ ঘটনা ‘ট্রেইল অব টিয়ার্স’ বা অশ্রুভেজা পথ নামে পরিচিত। সেই যাত্রায় অবরুদ্ধ ক্যাম্পগুলোয় ক্ষুধা ও অবর্ণনীয় কষ্টে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারায়।
দৈহিক বিনাশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচিতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলার কৌশলটিও ছিল গোষ্ঠীনিধনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৮৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত আদিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে পাঠানোর রাষ্ট্রীয় প্রথা চালু ছিল। ‘মানুষটিকে বাঁচাও, ইন্ডিয়ান সত্তাটিকে মারো’—এই অমানবিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই স্কুলগুলোর লক্ষ্য ছিল আদিবাসী শিশুদের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি ধ্বংস করে তাদের শ্বেতাঙ্গ সভ্যতার আজ্ঞাবহ করে তোলা। ডেভিড অ্যাডামসের গবেষণা ‘এডুকেশন ফর এক্সটিংকশন’ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, কীভাবে এই স্কুলগুলো আইনি কাঠামোর আড়ালে আদিবাসীদের আত্মপরিচয়কে পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করেছিল।
গোষ্ঠীনিধনের প্রাতিষ্ঠানিক অস্বীকৃতি ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গবেষণার পাশাপাশি সাহিত্য ও চলচ্চিত্রও শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ডি ব্রাউনের লেখা আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই ‘বেরি মাই হার্ট অ্যাট উন্ডেড নি’ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞের এক প্রামাণ্য দলিল, যা পরবর্তী সময়ে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রে রূপ পায়। এ ছাড়া মাইকেল ব্লেকের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত কেভিন কস্টনারের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ড্যান্সেস উইথ উলভস’ শ্বেতাঙ্গ আগ্রাসনের মুখে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও মানবিক অস্তিত্বের সংকটকে অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড গ্র্যানের গবেষণামূলক বই অবলম্বনে মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ সিনেমাটি ওসেজ আদিবাসীদের ওপর চালানো পদ্ধতিগত হত্যাযজ্ঞ ও তাদের সম্পদের আইনি লুটের ইতিহাসকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও অপরাধীদের রক্ষা করার এবং সত্যকে অস্বীকার করার রাজনীতি ভিন্ন প্রশাসনিক মোড়কে মার্কিন মুল্লুকে বহাল রয়েছে। যেমন ২০০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নেটিভ আমেরিকানদের’ প্রতি অতীতের অন্যায়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেও তা সম্পূর্ণ জনচক্ষুর আড়ালে করা হয়েছিল। স্বতন্ত্র কোনো বিলের বদলে বিষয়টিকে ২০১০ সালের ‘প্রতিরক্ষা বাজেট বিল’-এর ভেতর সন্তর্পণে যুক্ত করা হয়। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা জনসমক্ষে ঘোষণা ছাড়াই স্বাক্ষরিত এই দলিলে এমন একটি আইনি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে আদিবাসীরা এর ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দাবি বা মামলা করতে না পারে। ফলে পুরো উদ্যোগ চরম অবমাননাকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
ইতিহাসবিদ রোক্সান ডানবার-অরটিজ তাঁর প্রখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ‘অ্যান ইনডিজেনাস পিপলস হিস্ট্রি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-এ এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি আইনি ও ঐতিহাসিক দলিল ঘেঁটে দেখিয়েছেন, আদিবাসী নির্মূল কোনো ভুল বা বিচ্যুত নীতি ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ‘সেটলার কলোনিয়াল’ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই দাঁড়িয়ে আছে আদিবাসীদের ভূমি দখল এবং তাদের অস্তিত্ব বিলোপের ওপর। তাঁর গবেষণা প্রমাণ করে, জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে অ্যান্ড্রু জ্যাকসন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মার্কিন প্রশাসনের মূল আইনি ও সামরিক লক্ষ্যই ছিল আদিবাসী পরিচিতি মুছে ফেলা।
তাই এসব অস্বীকৃতি কেবল অতীতের কোনো বিমূর্ত বিষয় নিয়ে নয়। আজও যখন করপোরেট স্বার্থে আদিবাসীদের ভূমি বা সংরক্ষিত অঞ্চলে তেল পাইপলাইন (যেমন ডাকোটা অ্যাক্সেস পাইপলাইন) নির্মাণ করা হয়, তখন রাষ্ট্র তার পুলিশ ও আইনি কাঠামো ব্যবহার করে সেই পুরোনো ঔপনিবেশিক ধাঁচেই দমন-পীড়ন চালায়। আদিবাসী নিধন প্রসঙ্গে এই সুসংগত অস্বীকৃতির মুখোশ উন্মোচন করা তাই কেবল ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়নের জন্যই নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত জরুরি একটি কাজ।