ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর শহরে অবস্থিত রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে গেছেন।
গত সোমবার রাতে অ্যান্ড্রু রয়্যাল লজ ছাড়েন। স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের যে বাড়িতে তিনি স্থায়ী হবেন, সেখানকার সংস্কারকাজ চলছে। তিনি বর্তমানে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্ম কটেজে থাকছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর বাকিংহাম প্যালেস বলেছিল, ২০২৬ সালের শুরুতে অ্যান্ড্রুকে রয়্যাল লজ ছাড়তে হবে। তবে প্রয়াত এপস্টেইন সম্পর্কিত সর্বশেষ নথি প্রকাশ হওয়ার পর অ্যান্ড্রুর বাড়ি ছাড়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দিতে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। অ্যান্ড্রু অবশ্য বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বাকিংহাম প্যালেস গত অক্টোবর মাসেই ঘোষণা দিয়েছিল, অ্যান্ড্রুকে রয়্যাল লজ ছাড়তে হবে। সে সময় তাঁর প্রিন্স উপাধিও বাতিল করা হয় এবং বলা হয়, তিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন।
সান্ড্রিংহাম এস্টেট নামের রাজকীয় আবাসিক এলাকাটি রাজা তৃতীয় চার্লসের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তিনিই তাঁর ভাইয়ের নতুন বাড়ির খরচ বহন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেষমেশ অ্যান্ড্রু স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের মার্শ ফার্মে বসবাস করবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, রয়্যাল লজ থেকে বাকি মালপত্র সংগ্রহ করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উইন্ডসরে ফিরে যাবেন এন্ড্রু। তবে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে নরফোকে।
সর্বশেষ গত সোমবার অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসরে তাঁর পুরোনো বাড়ির কাছে ঘোড়ায় চড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাঁকে উইন্ডসর ক্যাসেল থেকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীদের দিকে হাত নাড়াতে দেখা গেছে।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর বিতর্কের মধ্যে আছেন। খুব সম্প্রতি বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও এক নারী যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন।
অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য এপস্টেইন একজন নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, ২০১০ সালে অ্যান্ড্রুর বাসভবন রয়্যাল লজে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই নারী ব্রিটিশ নাগরিক নন এবং ঘটনার সময় তাঁর বয়স ২০–এর কোঠায় ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনি সংস্থা এডওয়ার্ডস হেন্ডারসনের আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস ওই নারীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। সেই নারীর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর আইনজীবী বলেছেন, অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটানোর পর তাঁকে (অভিযোগকারী নারী) বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল। সেখানে চা-আপ্যায়নও করা হয়।
বিবিসি গত রোববার এ–সংক্রান্ত অভিযোগের কথা প্রকাশ করার পর সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো কোনো উত্তর দেননি। তবে এর আগে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
২০১৪ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের আরেক নারী। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, এপস্টেইন ও তাঁর বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাঁকে পাচার করেছিলেন এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছিলেন। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। জিউফ্রে গত বছর আত্মহত্যা করেন।
অ্যান্ড্রু বরাবরই জিউফ্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জিউফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশের পর গত বছরের অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, তাঁকে উইন্ডসর এস্টেটের রয়্যাল লজ বাসভবন ছাড়তে হবে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত যেসব নথি, ই–মেইল ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে কুখ্যাত এ যৌন নিপীড়কের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বড় বড় তারকা, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য রয়েছে।
২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও প্রভাবশালী মানুষদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।
যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে পাচারসংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় বিচার চলাকালে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান এপস্টেইন।