
জার্মানির রাজধানী বার্লিনের সড়কে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উপলক্ষে এক আয়োজনে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১ জন নিহত এবং অন্তত ১৬ জনের আহত হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে জার্মানির পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ ফটকলাগোয়া টিয়ারগার্টেনের দক্ষিণ অংশে এ ঘটনা ঘটে। হতাহতের ঘটনার পর ওই আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বার্লিনের টাগেস স্পিগেল পত্রিকা পুলিশের বরাতে জানিয়েছে, একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি ভিড়ের মধ্যে উঠে যায়।
বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ বলেন, একাধিক মানুষকে চাপা দেওয়ার পর একটি গাছের সঙ্গে গাড়িটির ধাক্কা লাগে। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি (চালক) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ সাইরেন বাজতে শুরু করে। ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের ঠিক পাশেই স্থাপিত মঞ্চঘেঁষা বিশাল পর্দায় বড় অক্ষরে লেখা দেখা যায় ‘এলাকা খালি করুন’। এ সময় সবাইকে শান্তভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানায়নি পুলিশ। শুধু জানানো হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ আজ রোববার বলেন, সন্দেহভাজনকে ধরতে শহরজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। ওই ব্যক্তি ‘ইসলামিক বলয়ের’ সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এ ঘটনাকে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বার্লিন পুলিশ জানায়, ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনাস্থলের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার সময়কার ছবি-ভিডিও চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ২৫০টিরও বেশি যানবাহন প্রতিরোধক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক বসানো ছিল। সার্বক্ষণিক পাহারাও ছিল। তবু কীভাবে একটি গাড়ি ওই এলাকায় ভিড়ের মধ্যে ঢুকে গেলে, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘটনার পর পুলিশের ব্যবহৃত হেলিকপ্টার নিচু দিয়ে ওই এলাকায় চক্কর দেয়। মাঝেমধ্যে সার্চলাইট ব্যবহার করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মোতায়েন করা হয় ড্রোন। কয়েকটি ড্রোন রাইখস্টাগ বা জার্মান পার্লমেন্ট ভবনের কাছে নামতেও দেখা যায়।
জার্মানিতে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ হলো সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী নারী-পুরুষ এবং কুইয়ার (এলজিবিটিকিউ) সম্প্রদায়ের মানুষের একটি বার্ষিক উৎসব। এদিন তাঁরা সমান অধিকারের দাবি, বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ ও নানা কর্মসূচি আয়োজন করেন। জার্মানিতে দিনটিতে সবচেয়ে বড় মিছিল হয় বার্লিন ও কোলন শহরে।
বার্লিনের এ ঘটনাকে একটি ‘ভয়ংকর কর্মকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি আমাদের স্বাধীন ও উন্মুক্ত সমাজের ওপর একটি আক্রমণ। বার্লিনের শান্তিপূর্ণ ও বর্ণিল এ সমাবেশকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।’