
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক কৌতুক করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই বোর্ডের নাম শান্তি (Peace) না হয়ে টুকরো (Piece) হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি যখন শান্তি সম্মেলনের কথা শুনলাম, আমি ভাবলাম এটা কি শান্তি, নাকি গ্রিনল্যান্ডের ছোট টুকরো অথবা ভেনেজুয়েলার ছোট একটা টুকরো।’
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) একটি প্যানেলে ব্ল্যাকরক-এর সিইও ল্যারি ফিঙ্কের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ইলন মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদকে এভাবে খোঁচা দেন।
দর্শকদের মৃদু হাসির মধ্যে মাস্ক আরও যোগ করেন, ‘আমরা তো কেবল শান্তিই চাই।’
ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই শান্তি পর্ষদ মূলত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা তদারকির জন্য বিশ্বনেতাদের একটি ছোট দল হিসেবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা এখন আরও বড় হয়েছে। ট্রাম্প ডজনখানেক দেশকে এতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই বোর্ড বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
মাস্ক বরাবরই ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে গত এক বছরে তাঁদের সম্পর্কে অনেক চড়াই-উতরাই গেছে। জনসমক্ষে বিবাদ এবং পরে আবার মিটমাট হওয়ার পর যখন তাঁদের সম্পর্ক জোড়া লাগছে, ঠিক তখনই মাস্ক এমন মন্তব্য করলেন।
আলোচনা চলাকালে মাস্ক ভবিষ্যদ্বাণী করেন, রোবট সমাজকে বদলে দেবে এবং মানুষের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে মানবজাতির কল্যাণ করবে। একদিন রোবটই আরও নতুন নতুন রোবট তৈরি করবে।
এই ধনকুবের আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার কোনো অভাব হবে না। কারণ, মানুষের চেয়ে রোবটের সংখ্যা বেশি হবে।’ মাস্কের মতে, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার বৃদ্ধ বাবা-মা বা সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একটি করে রোবট চাইবে। তিনি বলেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ টেসলা জনসাধারণের কাছে রোবট বিক্রি শুরু করবে।
ইলন মাস্ক একসময় দাভোসে উপস্থিত হলেন, যখন তাঁর স্টার্টআপ এক্সএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘গ্রোক’ আপত্তিকর ছবি তৈরির বিতর্কে জড়িয়েছে। এ ছাড়া মাস্ক আগে বহুবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই বার্ষিক সম্মেলনের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘অভিজাতদের আড্ডা’ এবং ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
এমনকি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ মাস্ক দাভোস সম্মেলনকে ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘অনির্বাচিত এক বিশ্ব সরকার, যা মানুষ কখনো চায়নি’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন।