
সুইজারল্যান্ডে এ যাবৎকালে যেসব ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, গত বুধবার রাতে নববর্ষের অনুষ্ঠানে এক পানশালায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড সেগুলোর একটি। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট গায় পারমেলিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
পারমেলিন বলেন, এটি ‘অজানা মাত্রার এক ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনা।’ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। হতাহতদের মধ্যে ইতালি ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হতাহতের বিষয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু মানুষের জীবন চিরতরে থেমে গেছে বা অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই নির্মম প্রাণহানি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি হতাহত এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পুলিশ কমান্ডার ফ্রেদেরিক গিসলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করাই আগামী কয়েক দিনে আমারদের অগ্রাধিকার, যাতে করে তাঁদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়।’
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও থাকতে পারেন উল্লেখ করে গিসলার বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের সময়মতো তথ্য দিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাচ্ছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বিট্রিস পিলু বলেন, কর্মকর্তারা আগুনের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তবে, তা বের করতে সময় লাগবে।
আগুনের উৎস হিসেবে প্রাথমিকভাবে একাধিক অনুমান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি হলো, এটি একটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড, যেখান থেকে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা-সংশ্লিষ্ট প্রাপ্ত বিভিন্ন ফোনালাপ বিশ্লেষণ করা হবে। আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব জুরিখের ফরেনসিক ইনস্টিটিউটকে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সরকারি কর্মকর্তাদের তরফে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে স্টেট কাউন্সিলর স্টেফান গ্যাঞ্জার বলেন, কোনো হামলা থেকে আগুন লাগেনি। বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার কথাও নাকচ করে দেন তিনি।
গ্যাঞ্জার বলেন, আগুন বৃহৎ আকার ধারণ করে। এ কারণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
আগুনের ঘটনা ঘিরে জরুরি কাজ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ তথ্য দেন আঞ্চলিক গভর্নর ম্যাথিয়াস রেনার্ড। তিনি জানান, ৪২টি অ্যাম্বুলেন্স, ১৩টি হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ৩টি ট্রাক জরুরি কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের একটি বড় অংশের অবস্থা ‘গুরুতর’ উল্লেখ করে রেনার্ড জানান, সিয়ন হাসপাতালে ৬০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু আহত ব্যক্তিকে সুইজারল্যান্ডের অন্যান্য শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালিসহ কয়েকটি দেশ দগ্ধদের চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
রেনার্ড বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালগুলো খুব চাপে আছে। তাই তিনি জনগণকে সংশ্লিষ্ট ‘হাসপাতালে ভিড় না জমাতে’ অনুরোধ করেন। সম্ভব হলে এসব হাসপাতালে আপাতত চিকিৎসা না নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ক্রানস-মন্টানায় বিলাসবহুল একটি পানশালায় গত বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নববর্ষের অনুষ্ঠানে আগুন লাগে। পানশালাটির নাম ‘লা কনস্টেলেশন’।