উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে বাড়ির সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ৯ জুন ২০২৬, বেলফাস্ট
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে বাড়ির সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ৯ জুন ২০২৬, বেলফাস্ট

বেলফাস্টে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের জেরে সহিংসতা, গাড়ি-বাড়িতে অভিবাসনবিরোধীদের আগুন-ভাঙচুর

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনার জেরে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শান্ত এক আবাসিক এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনার জের ধরে সড়ক অবরোধ, বাড়ি–গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ছড়িয়ে পড়েছে জাতিগত উত্তেজনা।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর বেলফাস্টের কিনেয়ার্ড অ্যাভিনিউ এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন এক দুর্বৃত্ত। হামলাকারী দুর্বৃত্ত তাঁর মাথা ও ঘাড়ে বারবার আঘাত করতে থাকে। পরে স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা ও পুলিশের সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে হামলা থামান।

গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ধারালো অস্ত্র বহন এবং প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের (পিএসএনআই) তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি সুদানের নাগরিক। তিনি ২০২৩ সালে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশটিতে থাকার অনুমতি পান। পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

বেলফাস্টে একটি ভবন ও এর সামনে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ৯ জুন ২০২৬, স্যান্ডি রো

তবে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ডানপন্থী কর্মীরা বিক্ষোভের আহ্বান জানান। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের শান্ত থাকার আহ্বান উপেক্ষা করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা যানবাহনে আগুন দেন, সড়ক অবরোধ করেন এবং অভিবাসীদের আবাসিক এলাকা বলে ধারণা করে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালান। পূর্ব ও উত্তর বেলফাস্টে একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে উগ্রপন্থী অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠী। একটি বাসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

অভিবাসনবিরোধীদের সহিংস বিক্ষোভ বেলফাস্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উত্তর আয়ারল্যান্ডের আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। জনসাধারণকে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল দাঙ্গাবাজদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করে বলেছেন, নিরীহ মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি ও বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৯ জুন ২০২৬, বেলপাস্ট

পুলিশ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করেছে। তবে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আর কাউকে গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।