ড্রোন হামলার পর আগুন ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি হোটেল ও ক্যাফেতে, ১ জানুয়ারি ২০২৬
ড্রোন হামলার পর আগুন ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি হোটেল ও ক্যাফেতে, ১ জানুয়ারি ২০২৬

রাশিয়ানিয়ন্ত্রিত খেরসনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ২৪

রাশিয়ানিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলে নতুন বছর উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি হোটেল ও ক্যাফেতে এই হামলা চালানো হয়। যেখানে বেসামরিক মানুষ নতুন বছর উদ্‌যাপন করছিলেন।

খেরসনের রাশিয়ানিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো এক বিবৃতিতে প্রথমে হামলার কথা জানান। পরে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকেরা একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেন।

সালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় গ্রাম খোরলিতে নতুন বছরের অনুষ্ঠান চলাকালে ইউক্রেন তিনটি ড্রোন হামলা চালায়। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে এ হামলা’ চালানো হয়েছে। এতে অনেক মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক তথ্যে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৬ শিশুসহ ৫০ জন আহত হওয়ার কথা জানা গেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নতুন বছরের আগের রাতে যেখানে বেসামরিক মানুষ জড়ো হয়েছিল, সেসব জায়গাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি যুদ্ধাপরাধ।’

ঘটনার পর প্রকাশিত কিছু ছবিতে একটি সাদা চাদরের নিচে মরদেহ দেখা গেছে। ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন এবং মাটিতে রক্তের দাগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে রয়টার্স এসব ছবি এবং অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তারা নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে অনেক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রেই এই হামলার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর দেশটির চারটি অঞ্চল আইন পাস করে নিজেদের করে রাশিয়া। খেরসন সেই চার অঞ্চলের একটি। ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের দাবি, রাশিয়ার এ দখল অবৈধ।