‘ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন’ ধরে দৌড়ানোর সময় হানা কক্স
‘ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন’ ধরে দৌড়ানোর সময় হানা কক্স

১০০ দিনে ১০০ ম্যারাথন, বাবার স্মরণে ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার দৌড়ালেন এই নারী

যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা এক নারী প্রয়াত বাবার স্মরণে ১০০ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ১০০টি ম্যারাথন দৌড়েছেন।

এই নারীর নাম হানা কক্স, বয়স ৪১ বছর। বাবার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর বাবার জন্মভূমি ভারত ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তিনি ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন’ বেছে নেন।

তবে হানা শুরুতে দৌড়ে নয়; বরং গাড়িতে চড়ে এ পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে দৌড় শুরু করার পর তিনি পুরো পথই দৌড়ে পার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য ১০০ দিন ধরে তাঁকে টানা ১০০টি ম্যারাথন দৌড়াতে হয়েছে।

গত সোমবার হানা দৌড় শেষ করেন। ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথ সফলভাবে দৌড়ে পার করার পর বিবিসি রেডিও ম্যানচেস্টারকে তিনি বলেন, ‘এ অনুভূতি অসাধারণ। আমি কখনোই একজন দৌড়বিদ ছিলাম না। আমার ধারণা, যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্বাস করতে পারবেন না, আমি কাজটা করেছি।’

ঐতিহাসিক ‘ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন’ ধরে হানা তাঁর শেষ গন্তব্যে পৌঁছান বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। একসময় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই লাইন ধরে পণ্য আনা-নেওয়া করত।

হানা বলেন, ‘ভারতের ভেতর দিয়ে দৌড়ানো সব সময়ই চাপের। ইন্দ্রিয়গুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আপনাকে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের এই নারী আরও বলেন, ‘দৃশ্যপট ভিন্ন, যানবাহনের চলাচলও আলাদা। আমি চেষ্টা করেছি নির্দিষ্ট পথ ধরে এগোতে, কিন্তু আমার শরীর প্রতিদিনই আলাদা অনুভব করেছে।’

এটা শারীরিকভাবে কত চ্যালেঞ্জের, সে বর্ণনা দিতে গিয়ে এই নারী বলেন, এটা মোটেও যন্ত্রণাহীন ছিল না।

হানা বলেন, স্কোলিওসিস ও অটোইমিউন রোগ নিয়েও তিনি এ দৌড় শেষ করেছেন। টানা এক সপ্তাহ তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে ভুগতে ভুগতে দৌড়েছেন।

শেষ তিন দিন হানাকে ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হানা বলেন, ‘আমার বাঁ পায়ে বেশ খারাপভাবে চোট লেগেছে, আমি হাসপাতালে যাব। তবে হ্যাঁ, আমি ভালোই আছি, আজ দৌড়াতে হচ্ছে না বলে খুশি।’

হান্নার এই যাত্রার অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর প্রয়াত বাবা ডেরিক কক্স। ডেরিকের জন্ম ভারতের কলকাতায়। তিনি ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ২০১১ সালে তিনি মারা যান।

হানা কক্সের বাবা ডেরিক কক্স। তিনি ২০১১ সালে মারা যান

হানার পূর্বপুরুষেরা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। তাঁদের কেউ কেউ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কাজ করেছেন।

হানা বলেন, ‘আমি সেই দেশের সঙ্গে কিছুটা সংযোগ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যেন আমি ১৭৯৯ থেকে আমার পরিবারের ইতিহাস অনুসরণ করতে পারি। আমি ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন নামে একটা কিছু থাকার কথা শুনেছি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় এটি ভারতের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা একটি বড় কাস্টমস লাইন ছিল।’

হানা ‘ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইন’ নিয়ে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন। কিন্তু তেমন কোনো তথ্য পাননি। তিনি ২০১৪ সাল থেকে এ পথ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। ১২ বছর পর এখন তিনি মনে করেন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এ পথ পুরোটা পাড়ি দিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত হানার ‘প্রজেক্ট সল্ট রান’ বিভিন্ন পরিবেশ সংস্থার জন্য ৭৫ হাজার পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে।