জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের ওয়ার্কিং সেশনের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে দেখা যাচ্ছে। ১৭ জুন ২০২৬, এভিয়ঁ লে বেঁ
জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের ওয়ার্কিং সেশনের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে দেখা যাচ্ছে। ১৭ জুন ২০২৬, এভিয়ঁ লে বেঁ

‘আমিই বস’: জি–৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ করে ট্রাম্পের মন্তব্য

# নেতাদের যৌথ বিবৃতি ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

# ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত নয়, যুক্তরাষ্ট্র আবার বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে।

# নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বিষয়ে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার বিশ্বনেতাদের সামনে ‘আমিই বস’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এবং জি–৭-এর অন্য নেতারা ইউক্রেনকে যৌথভাবে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

ফ্রান্সের অবকাশযাপনকেন্দ্র এভিয়ঁ লে বেঁতে ১৫ থেকে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি–৭-এর শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প এই রসাত্মক মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন একটি যৌথ বিবৃতির পর এল, যা মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের (ইউক্রেন) অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তাঁর সহযোগীরা এই জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্পকে এটি বোঝানোর আশায় এসেছিলেন যে ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধ সফল হচ্ছে। রাশিয়া এখন আর কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থানে নেই।

রাশিয়াকে ‘আক্রমণকারী’ পক্ষ বললেন ট্রাম্প

নেতাদের যৌথ বিবৃতি ও মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে সংশয় প্রকাশ করার পর ট্রাম্প অবশেষে জেলেনস্কির যুক্তির প্রতি সদয় হয়েছেন বা তা মেনে নিয়েছেন।

ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়ার বেশি সেনা মারা যাচ্ছে। তিনি এই সংঘাতের জন্য মস্কোকে ‘আক্রমণকারী’ পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দিনের শুরুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ‘চিন্তাভাবনায় একটা বাস্তব পরিবর্তন’ দেখা গেছে। অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলন ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে এবার ভার্সাই প্রাসাদে এক জমকালো নৈশভোজের আগে মাখোঁ ও ট্রাম্প দুজনেই এই জি–৭ সম্মেলনকে সফল বলে অভিহিত করেছেন।

অবশ্য মস্কোকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার যেকোনো আশা এখনো ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির ওপরই নির্ভর করছে, যা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

ইরানের চুক্তির বিষয়ে কূটনীতিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

জি–৭ প্রধানেরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা এটি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এই চুক্তিতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে (যদি থাকে), সে বিষয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

ইউরোপীয় মিত্ররা আশঙ্কা করছেন, একটি অনভিজ্ঞ মার্কিন আলোচনাকারী দল হয়তো পরবর্তী ধাপে একটি শক্তিশালী পরমাণুচুক্তি নিশ্চিত করতে বা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সমাধান করতে ব্যর্থ হতে পারে, যার ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘ সময়ের জন্য থমকে যেতে পারে।

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত নয়। এই চুক্তি মানা না হলে তিনি আবার বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি এটি আমার পছন্দ না হয়, যদি তারা ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সরাসরি গিয়ে আবার তাদের মাথার ঠিক মাঝখানে বোমাবর্ষণ শুরু করব, ঠিক আছে?’

যদিও ইউরোপীয় মিত্ররা প্রকাশ্যে এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটিকে সমর্থন করছেন বলে মনে হয়েছে। তবে কূটনীতিকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি (সহযোগী) বাহিনীকে দেওয়া সমর্থনের বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তি করা মোটেও সহজ কাজ নয়।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ

আলাদাভাবে জি–৭ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের জন্য চীনের ওপর তাঁদের দেশগুলোর নির্ভরতা কমাতে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ মজুত রাখার পরিকল্পনাগুলো একসঙ্গে সামঞ্জস্য করা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাকে (আইইএ) আরও বড় ভূমিকা দিয়ে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করা।

প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ধাতুর উৎস বহুমুখী করতে এবং এসব পণ্যে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

এ ছাড়া মধ্যাহ্নভোজের সময় জি–৭ নেতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করেন। এতে ওপেনএআই (OpenAI)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রোপিক-এর সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তিপ্রধানদের সঙ্গে বট ও এজেন্টদের জবাবদিহি এবং এআই কীভাবে সত্য ও মিথ্যাকে উপস্থাপন করে—তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।