গ্রিনল্যান্ডের ওল্ড নুক
গ্রিনল্যান্ডের ওল্ড নুক

আমরা মার্কিন নাগরিক হতে চাই না: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিবিদেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ‘আমেরিকান হতে চান না’। এই আর্কটিক দ্বীপের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসী নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী পছন্দ করুক বা না করুক, যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু একটা করবেই’।

গতকাল শুক্রবার রাতে গ্রিনল্যান্ড পার্লামেন্টের পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নেতারা একজোট হয়ে এই বিবৃতি দেন। এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দ্বীপটি দখল করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডরিক নিলসেনসহ ওই নেতারা বলেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীকেই নির্ধারণ করতে হবে।’

নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোনো চাপ বা দেরি না করে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ আমাদেরই ঠিক করতে হবে।’

ট্রাম্পের ‘সহজ বা কঠিন’ পথ

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা যদি ব্যবস্থা না নিই, তবে তারাই এটা করবে। তাই আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি, তা সে সহজ পথেই হোক বা কঠিন পথে।’

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দ্বীপটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে’ আলোচনা করছেন।

জনমত এবং ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া

২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি বলেছেন, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের অর্থ হবে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমাপ্তি। তিনি ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেনমার্কের কোনো অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

জবাবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে ন্যাটোর অস্তিত্বই থাকত না। ন্যাটো রক্ষা করবেন নাকি গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, ‘এটি একটি পছন্দ হতে পারে।’

ভূরাজনৈতিক পটভূমি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ট্রাম্প সেখানে যত খুশি সৈন্য পাঠাতে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, কেবল চুক্তিতে কাজ হবে না। তিনি বলেন, ‘মালিকানা থাকতে হয়। আপনি মালিকানা রক্ষা করেন, লিজ নয়।’

এর আগে ট্রাম্প ২০১৯ সালেও দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের চারপাশে প্রচুর রুশ ও চীনা জাহাজ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রধান জেস বার্থেলসেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘আমরা এমন কিছু দেখি না। ট্রাম্পের কথা আমাদের বোধগম্য নয়।’