মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এল সালভাদরের রাজধানী সান সালভাদরে একটি ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন লোকজন। ১৭ জুলাই ২০২৬
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এল সালভাদরের রাজধানী সান সালভাদরে একটি ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন লোকজন। ১৭ জুলাই ২০২৬

মেক্সিকো উপকূলে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনাও কেঁপে ওঠে। তবে কোনো দেশেই তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে।

এর আগে সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৪ এবং এর গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছিল। পরে তারা তথ্য সংশোধন করে নতুন এই হিসাব দেয়।

ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার কিছু উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

তবে মেক্সিকোর নৌবাহিনী প্রধান রায়মুন্দো মোরালেস জানান, সমুদ্রের পানির উচ্চতা আধা মিটারের বেশি বাড়ার আশঙ্কা নেই। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিনি জনগণকে আপাতত সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

একটি নিয়মিত সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মোরালেস বলেন, ‘আপাতত বড় কোনো সমস্যা বা সামুদ্রিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির কারণে কিছু সমুদ্রসৈকতে পানির উচ্চতা বড়জোর আধা মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।’

মূল ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরে বেশ কয়েকটি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। এগুলোর কয়েকটির তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৫ থেকে ৬ মাত্রার মধ্যে ছিল বলে জানা গেছে।