স্যামি ইয়াহুদ
স্যামি ইয়াহুদ

ইসলামবিরোধী বক্তব্য দেওয়া ইহুদি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

ইসলামবিদ্বেষী এক ইহুদি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার একাধিক অনুষ্ঠানে স্যামি ইয়াহুদ নামের ওই ইনফ্লুয়েন্সারের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

অস্ট্রেলীয় ইহুদিদের সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান জেউয়িশ অ্যাসোসিয়েশন (এজিএ) বলেছে, স্যামি ইয়াহুদের ভিসা তাঁর নির্ধারিত ফ্লাইটের তিন ঘণ্টা আগে বাতিল করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও খবরটি নিশ্চিত করে বলেছেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি স্যামির ভিসা বাতিল করেছেন। তাঁর মতে, কাউকে বিদ্বেষ ছড়াতে আসার জন্য ভিসা দেওয়াটা ঠিক নয়।

টনি বার্ক গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে আরও বলেন, ‘যদি কেউ অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চায়, তবে তাদের সঠিক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং সঠিক কারণে আসতে হবে।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তে স্যামি ইয়াহুদ ক্ষোভ জানিয়েছেন। তিনি রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ–সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

স্যামি বলেন, ‘এটা মোটেও আমার ব্যক্তিগত কোনো গল্প নয়। এটি সরকারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়। এটা নির্যাতন, সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।’

সম্প্রতি স্যামি ইয়াহুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে ইসলামবিদ্বেষী কথা উল্লেখ করেন। গত ৬ নভেম্বর তিনি এক্সে দেওয়া পোস্টে ইসলামবিদ্বেষী কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যারা আমাদের প্রতি সহনশীল নয়, তাদের প্রতি সহনশীল হওয়া বন্ধ করার সময় এসেছে।’

স্যামি ইয়াহুদ যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলে চলে যান। ইসরায়েলি সংবাদমাদ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে স্যামিকে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান জেউয়িশ অ্যাসোসিয়েশন (এজিএ) ইয়াহুদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বড় বড় সিনাগগে এজিএ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্যামি ইয়াহুদের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় আরও কিছু সংগঠনেও তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এজিএ লিখেছে, বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে হামলার ঘটনার পর ইহুদি সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়া–সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা থেকে সম্প্রতি পার্লামেন্ট টনি বার্কের ভিসা বাতিলের ক্ষমতা বেড়েছে।