আসামের বাঙালিদের বিপদ কমছে না

আসামের গুয়াহাটিতে এনআরসি সদর দপ্তর। ছবি: প্রথম আলো
আসামের গুয়াহাটিতে এনআরসি সদর দপ্তর। ছবি: প্রথম আলো

ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও বিপদ কমছে না রাজ্যের বাঙালিদের। নতুন করে যাচাই হবে অনেকেরই নাগরিকত্ব। বিপন্ন হতে চলেছেন নয় লাখ আসামবাসী। এঁদের বেশির ভাগই বাঙালি।

গত সোমবার ছিল আসামের এনআরসি–ছুটদের নাম তোলার আবেদনের পাশাপাশি চূড়ান্ত খসড়ায় নাম নথিভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর শেষ দিন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এনআরসি সূত্রে খবর, ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জনের নাম বাদ পড়লেও দরখাস্ত জমা পড়েছে ৩১ লাখ।

এর পাশাপাশি এনআরসির খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও আপত্তি জানানোর শেষ দিন গত ৩১ ডিসেম্বর তিন লাখ নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জমা পড়েছে। বাঙালিবিদ্বেষী বলে পরিচিত আসামের সংগঠন আসুর নেতৃত্ব ৩০টি সংগঠন এই আপত্তি জানানোর দায় স্বীকার করেছে।

আসু নেতা লুরিন জ্যোতি গগৈ সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বরের আগে মাত্র ৭৭০টি আপত্তি জমা পড়েছিল। কিন্তু আমরা উদ্যোগ নিয়ে শেষ দিনেই গোটা রাজ্যে এক দিনে তিন লাখ আপত্তি জমা করিয়েছি।’

১৫ জানুয়ারি থেকে এসব আপত্তির মীমাংসা–প্রক্রিয়া শুরু হবে। জানা গেছে, বাঙালিদের বিরুদ্ধেই প্রায় সব আপত্তি জমা পড়েছে। তাই আসামের বাঙালিদের ফের দিতে হবে নাগরিকত্বের পরীক্ষা।

এনআরসি তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে আপত্তি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসুর এই ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে আসাম রাজ্য নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় সমিতি (সিআরপিসিসি)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান তপোধীর ভট্টাচার্য আজ বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাষ্ট্র কখনো প্রতিশোধের ভূমিকা নিতে পারে না। পুরোটাই তো সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে হওয়ার কথা। এখন সুপ্রিম কোর্ট আসুর এই বিদ্বেষের বিচার করুক।’একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক দিনে এত আপত্তি আসলে তো মানুষকে হয়রানি করার জন্যই। গোটা ঘটনার তদন্ত হওয়া জরুরি।’

গতকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে এনআরসির খসড়ায় নামের বানানবিভ্রাট সংশোধন। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। অনলাইনে বা এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সংশোধন করতে হচ্ছে ভুল নামের।