ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরুদ্ধে ভারতের অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের কাছে তীব্র আপত্তি জানাল। সরাসরি এই দলগুলো প্রশ্ন তুলল, অধিকাংশ সময় দেখা যায় তা একটি রাজনৈতিক দলকেই সাহায্য করছে। এই ভোটিং যন্ত্রগুলো কোথায় সারানো হয়, কারা সারায়, সেই সব সংস্থার পরিচয় বিরোধীদের জানানোর দাবিও জানানো হয়।
দেশের সব জাতীয় দল এবং আঞ্চলিক দলের নেতাদের বৈঠক ডেকেছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। আজ সোমবার সেই বৈঠকে অধিকাংশ দলের দাবি, ইভিএমের বদলে সেই পুরোনো ব্যালট পেপার পদ্ধতিতে কমিশন ফিরে যাক। এতে মেশিনের কারচুপি বন্ধ হবে।
ইভিএম নিয়ে কমবেশি আপত্তি ও অভিযোগ প্রায় সব রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে। কিন্তু সাড়ে চার বছর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পর উত্তর প্রদেশের বিএসপি নেত্রী মায়াবতী সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি ইভিএমে কারচুপি করে ভোটে জিতেছে। একই অভিযোগ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির (আপ)। সেই অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল ইভিএমের কারচুপি প্রমাণ করতে। কিন্তু কমিশনের আরোপিত শর্ত অনেক দলই মেনে নেয়নি। তা সত্ত্বেও কেউ কেউ প্রমাণ করেছিল, চাইলে ইভিএমে কারচুপি করে কোনো বিশেষ দলকে সাহায্য করা যায়। ওই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন ‘ভিভিপ্যাট’ মেশিনের প্রচলন করে। ইভিএমের পাশে রাখা ওই মেশিন বলে দেবে ভোটার কাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল সন্দেহমুক্ত হতে পারেনি। সোমবারের বৈঠক তারই প্রমাণ।
আজকের বৈঠকে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বিএসপি, এসপি, এনসিপি, সিপিআই, সিপিএম, সংযুক্ত জনতা দল, আরজেডিসহ ৫১টি আঞ্চলিক দলের নেতারা অংশ নেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন কী কী সংস্কারের কথা ভাবছে, তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়। যদিও বড় হয়ে ওঠে ইভিএম প্রসঙ্গ। বৈঠকের পর কংগ্রেসের নেতা মুকুল ওয়াসনিক বলেন, ইভিএমের ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমে গেছে। জনগণের রায় ওই মেশিন মারফত প্রতিফলিত হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কল্যাণ মুখোপাধ্যায় সরাসরি জানিয়ে দেন, ইভিএমের ওপর তাঁদের আস্থা ও ভরসা কোনোটাই নেই। লোকতান্ত্রিক জনতা দলের নেতা শরদ যাদবও বলেন, ইভিএমের ওপর আস্থা নেই। কমিশন পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাক।
ব্যালট পেপারের বদলে ইভিএম আনা হয়েছিল ‘ভোট লুট’ রুখতে ও খরচ কমাতে। ব্যালট মারফত ভোটে প্রচুর কাগজ নষ্ট হয়। পরিবেশের পক্ষে তা ক্ষতিকর। তা ছাড়া জবরদস্তি বুথ দখল করে ব্যালটে ছাপ মারাও ইভিএম প্রচলনের পর বন্ধ। এখন নতুন করে ইভিএমের বিরুদ্ধে মত দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য অবশ্য করেনি। কমিশন আগেই জানিয়েছে, দু-একটি মেশিন খারাপ হতে পারে। কিন্তু প্রোগ্রামিং মারফত ইভিএমে ঢালাও কারচুপি ঘটিয়ে কোনো বিশেষ দলকে সাহায্য করা যায় না।