নির্বাচনী সমীক্ষা

বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না

ভারতের লোকসভা নির্বাচন আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল। বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা বা এনডিএ মনে করছে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গড়বে এনডিএ। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউপিএ মনে করছে, তাদের আসন বাড়বে। তৃতীয় শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে তাদের নেতৃত্বে সরকার হতে পারে।

এসব ভাবনার মধ্যে এবিপি নিউজ ও সি–ভোটারের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন নির্বাচন হলে বিজেপির পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। তবে তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ কষ্ট করে সামান্য ব্যবধানে সরকার গড়তে পারে। সমীক্ষা প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, কংগ্রেসের আসন বাড়বে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএর আসনও বাড়বে। তবে বিজেপিবিরোধী শক্তি এক হলে সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসসহ অন্যরা মিলে সরকার গড়ার কাছাকাছি যেতে পারে।

নির্বাচনের এখনো কয়েক মাস বাকি। লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হবে। ওই তিনটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। আসন্ন নির্বাচনে ওই তিনটি রাজ্যে কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই ফলাফলের পর লোকসভার নির্বাচনের ফলাফল ঘুরে যেতে পারে । বিজেপির ভোট কমতে পারে। কংগ্রেসসহ বিজেপিবিরোধীদের ভোট বাড়তে পারে।

এবিপি নিউজ ও সি-ভোটারের সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মুহূর্তে লোকসভার নির্বাচন হলে ৫৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে পারে ২৭৬টি আসন। সরকার গড়তে হলে দরকার ২৭২টি আসন। ফলে অতিকষ্টে মাত্র চারটি আসনের ব্যবধানে সরকার গড়তে পারে এনডিএ। তবে এই নির্বাচনে বিজেপি আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ২০১৪ সালের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে পেয়েছিল ২৮২টি আসন, আর তাদের এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৪১টি আসন। এবার সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৪৮ ও ২৭৬টি আসনে।

সমীক্ষায় জানানো হয়, এবার ইউপিএ পেতে পারে মাত্র ১১২টি আসন। এর মধ্যে কংগ্রেস একা পেতে পারে ৮০টি আসন। ২০১৪ সালে ইউপিএ পেয়েছিল ৬০টি আসন, আর কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছিল ৪৪টি আসন। আর বিজেপিবিরোধী অন্য দলগুলো পেতে পারে ১৫৫টি আসন। এই আসনের সঙ্গে কংগ্রেস বা ইউপিএর আসন যোগ করলেও তাদের জেতা কঠিন হবে। তবে নির্বাচনের এখনো ছয় মাসের বেশি সময় বাকি। এর মধ্যে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হবে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভোট বাড়তে পারে। পাশাপাশি এনডিএর ভোট কমতে পারে। কারণ এনডিএর কয়েকটি শরিক চলে গেছে। আবার এর উল্টোটাও হতে পারে।