পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

করোনার কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজ্য সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, রাজ্য দপ্তরে ই-মেইলের মাধ্যমে এসব পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে মতামত এসেছে। আজ বেলা ২টা পর্যন্ত ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ ই-মেইল করে পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের মতামত দেন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে মতামত দেন।
এরপরই আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দেন, এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এ বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হলো।

গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকারের ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এরপর এসব পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত জানতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। আজ বেলা দুইটার মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি সর্বসাধারণকে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় তাঁদের মতামত পাঠাতে বলা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব ই-মেইলে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে এ বছর ১০ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭ হাজার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৯ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার কথা। ইতিমধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে সিবিএসই এবং সিআইএসসিই বোর্ড।

গত ২ মে ছিল পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি ঘোষণার দিন। কিন্তু ওই দিন সকালে রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সূচি ঘোষণা স্থগিত করার কথা জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সূত্রমতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগে থেকেই করোনার সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি। বিধানসভা নির্বাচন ও করোনা পরিস্থিতির কারণে এ রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে ১ জুন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গত ২৭ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী জুলাইয়ে উচ্চমাধ্যমিক ও আগস্টে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।