
দক্ষিণ কলকাতার তারাতলা-ডায়মন্ড হারবার সড়কের মাঝেরহাট উড়ালসেতুর একাংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় আরও একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কংক্রিটের স্তূপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মৃত মানুষের সংখ্যা দুইয়ে পৌঁছেছে। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে। গতকাল বিকেলে আটকে পড়া দুই শ্রমিক মোবাইলে উদ্ধারের আর্তি জানান। পরে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
এদিকে উড়ালসেতু নির্মাণের গাফিলতিতে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে গতকাল কলকাতা হাইকোর্টে দুটি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশও একটি মামলা করেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে উড়ালসেতুটির একাংশ ভেঙে পড়ে। ওই সময় তার ওপর ছিল বেশ কয়েকটি যানবাহন। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন নিহত ও বেশ কিছু লোক গুরুতর আহত হয়েছেন।
উড়ালসেতু উদ্ধারকাজে অংশ নেয় কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটি, দমকলের সদস্যরা। উদ্ধারকারীরা গতকাল জানিয়েছিলেন, কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া মুর্শিদাবাদের দুই শ্রমিক প্রথমে মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, তাঁরা চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধার করা হোক তাঁদের। এখন পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান মেলেনি। ফোনও ধরছেন না। তাঁরা ছিলেন মেট্রোরেলের কর্মী। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। বিধ্বস্ত উড়ালসেতুর নিচে তিনটি ঘরে ছিলেন বেশ কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক। তাঁদের খোঁজও এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবারের উড়ালসেতু দুর্ঘটনা যখন ঘটে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ে ছিলেন। এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতায় ফিরে তিনি গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সবদিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
মাঝেরহাটের সেতুটি তৈরি হয় ১৯৬৪ সালে। ৪৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গের গণপূর্ত বিভাগের। কলকাতার ধর্মতলা থেকে বেহালা-ঠাকুরপুকুর সড়কে ডায়মন্ড হারবারের পথে রয়েছে এই সেতু। ছয় মাস আগে সেতুটি পরীক্ষা করে পূর্ত দপ্তর ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়েছিল।
এই নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে কলকাতায় তিনটি উড়ালসেতু এবং শিলিগুড়িতে একটি উড়ালসেতু ভেঙে পড়েছে। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের আগে কলকাতার বড়বাজার এলাকায় পোস্তায় বিবেকানন্দ উড়ালসেতু ভেঙে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।